“৪ হাত এক হওয়ার আগেই সব শেষ!”-লখনউয়ে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হাওড়ার মেয়ের স্বপ্ন

বিয়ের আর মাত্র চার মাস বাকি। বাড়িতে বিয়ের তোড়জোড়, কেনাকাটা আর উৎসবের আমেজ—সবই নিমেষে শেষ হয়ে গেল এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে। লখনউয়ের বিধ্বংসী আগুনে ঝলসে প্রাণ হারালেন হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের বাসিন্দা অনামিকা সামন্ত (২৭) এবং তাঁর হবু স্বামী নীলেশ কুমার (২৮)। চার হাত এক হওয়ার আগেই বিধাতার এমন নিষ্ঠুর পরিহাস মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

সূত্রের খবর, লখনউয়ের অলিগঞ্জ এলাকার একটি আবাসনের দোতলায় অবস্থিত ‘হেড হপার স্টুডিওস’-এ কর্মরত ছিলেন অনামিকা ও নীলেশ দুজনেই। গত সোমবার ওই বহুতলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকা একটি পোষা প্রাণীর দোকান (পেট শপ) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখা গ্রাস করে দোতলার স্টুডিওটিকে। ঘন ধোঁয়া ও আগুনের গ্রাসে বন্দি হয়ে অকুস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের।

মুখের অংশ দেখে শনাক্ত করলেন পরিজনেরা কর্মসূত্রে অনামিকারা নিউ আলিপুরে থাকতেন। সোমবার সন্ধ্যায় মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই শোকে পাথর হয়ে যায় পরিবার। তড়িঘড়ি লখনউ পৌঁছান অনামিকার মা-বাবা ও আত্মীয়রা। মর্গে গিয়ে দেহ শনাক্ত করা ছিল এক চূড়ান্ত বিভীষিকার মতো। মৃতার কাকা ভাঙা গলায় জানান, আগুনের তীব্রতায় দেহ চেনার উপায় ছিল না। শেষপর্যন্ত মুখের সামান্য অংশ দেখে নিজের সন্তানকে শনাক্ত করতে হয় বাবা-মাকে।

শোকের ছায়া জগৎবল্লভপুরে বুধবার অনামিকার দেহ জগৎবল্লভপুরের গড়বালিয়ার পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছাতেই এলাকা জুড়ে নেমে আসে শোকের কালো মেঘ। যে বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্নার রোল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের অনামিকার এমন পরিণতি কেউ কল্পনাও করতে পারছেন না।

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে—যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি কোনো গাফিলতি, তা খতিয়ে দেখছে লখনউ পুলিশ। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।