৪ দিনের আগেই ২৭ হাজার ভিড়! বিজয়ের জনসভার সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: কেন গ্রেফতার হলেন দুই নেতা?

তামিলনাড়ুর করুরে অভিনেতা ও তামিলাগা ভেত্ত্রি কঝগম (TVK) নেতা বিজয়ের রাজনৈতিক সমাবেশে পদপিষ্ট হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় অবশেষে কড়া পদক্ষেপ নিল আদালত। তদন্তে বাধা এড়াতে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দলের দুই নেতাকে আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা ও সেশন আদালত।

আটক হওয়া দুজন হলেন—টিভিকের করুর পশ্চিম জেলা সম্পাদক ভি.পি. মাথিয়ালাগন এবং যৌথ জেনারেল সেক্রেটারি পৌনরাজ। যদিও দলের জেনারেল সেক্রেটারি এন. আনন্দ (বুসি আনন্দ) এবং যৌথ জেনারেল সেক্রেটারি সি.টি. নির্মল কুমারকে অভিযুক্ত করা হলেও তারা এখনও গ্রেফতার হননি।

ট্র্যাজেডির নেপথ্যে অব্যবস্থা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থতা
এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে ৪১ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি শিশু ও মহিলাসহ প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন এই ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি’ বলে অভিহিত করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আরুনা জগদীশনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন।

সমর্থকের ঢল: বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রার তৃতীয় পর্যায়ের এই সমাবেশে সকাল ১০টার মধ্যেই প্রায় ২৭ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন, যা আয়োজকদের অনুমোদিত অনুমান (১০ হাজার) থেকে অনেক বেশি। ভিজে-এর সভার অনুমতি ছিল বিকেল ৩টা থেকে, কিন্তু তিনি পৌঁছান রাত ১২:৪৫-এ।

দুর্ঘটনার কারণ: সন্ধ্যা ৭:২০-এ সমাবেশ শুরু হলে ভিড়ের চাপে একটি গাছ থেকে লাফানো সমর্থকরা ভিড়ের উপর পড়ে যান, যা এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত ঘটায়। আহতদের অনেকেই এখনও করুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।

পুলিশের বক্তব্য: জিডিপি জি. বেনকতরামান বলেছেন, “এটি একটি গভীরভাবে দুঃখজনক ঘটনা। আয়োজকরা ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করেনি।”

সর্বস্তরে শোক ও সমবেদনা
এই ঘটনায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ, এবং অভিনেতা রজনীকান্ত সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, “কর্ণাটকের করুর র‍্যালির দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় আমার হৃদয় বিদীর্ণ।” এনডিএ-র একটি প্রতিনিধি দলও করুর পরিদর্শন করেছে। পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক পোস্ট দেওয়ায় আরও ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।