“৪ আল-কায়দা জঙ্গি গ্রেপ্তার”-জম্মু-কাশ্মীরে হামলার আবহেই গুজরাট এটিএসের বড় সাফল্য

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর সারা দেশে চলা লাগাতার তল্লাশি অভিযানের মধ্যেই বড় সাফল্য পেল গুজরাট পুলিশের অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। ‘আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (AQIS)-এর সঙ্গে যুক্ত চার সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। এই গ্রেপ্তারির ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করেছে।

গুজরাট এটিএস জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত চার জঙ্গিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধরা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে দিল্লির একটি গোপন আস্তানা থেকে, অন্যজনকে উত্তরপ্রদেশের নয়ডা থেকে আটক করা হয়। বাকি দু’জনকে গুজরাটের আহমেদাবাদ এবং মোদাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম হলো মহম্মদ ফয়ক, মহম্মদ ফারদিন, সইফুল্লা কুরেশি এবং জিশান আলি।

এটিএস কর্মকর্তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই চারজন দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই গোষ্ঠীর সংস্পর্শে আসে এবং তাদের মতাদর্শে দীক্ষিত হয়। ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে আগে থেকেই খবর ছিল যে, ওসামা বিন লাদেন এবং আয়মান আল-জাওয়াহিরির মৃত্যুর পরেও আল-কায়েদা আফগানিস্তানের কিছু অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে এবং ভারতে নতুন করে নাশকতা চালানোর ছক কষছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলো এখন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এটিএস জানিয়েছে, এই জঙ্গিরা নিজেদের অবস্থান এবং যোগাযোগ গোপন রাখতে বেশ কিছু ‘অবৈধ’ অ্যাপ ব্যবহার করত। তারা মোবাইল এবং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজেদের লোকেশন মুছে ফেলার চেষ্টা করত। তাদের এই কৌশল দেখে গোয়েন্দারা মনে করছেন, তারা যথেষ্ট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সংগঠিত।

এই গ্রেপ্তারির ঘটনা প্রমাণ করে যে, দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সতর্ক। পহেলগামের ঘটনার পর জম্মু-কাশ্মীরে যেমন সেনা এবং পুলিশ যৌথ তল্লাশি চালাচ্ছে, তেমনই দেশের অন্যান্য অংশেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গুজরাট এটিএসের এই সাফল্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।