৪০ পেরোলেই মৃত্যু! ভারতের এই গ্রামে শৈশবের পরই চলে আসে বার্ধক্য, লাঠিতে ভর দিয়ে চলে ২৭ বছরের যুবতী!

বিকশিত ভারতের এক কোণে যেন অভিশাপের নামতা গুনছে একটি গ্রাম। বিহারের মুঙ্গের জেলার টিলাঘেরা সবুজ গ্রাম দুধ পানিয়া, যেখানে ‘আয়ুষ্মান ভব’ বা দীর্ঘজীবী হওয়ার মতো আশীর্বাদ সম্পূর্ণ অচল। এই গ্রামের জনজাতিভুক্ত বাসিন্দাদের জীবনে শৈশবের পরই যেন হানা দেয় বার্ধক্য। অধিকাংশেরই জীবদ্দশা এসে দাঁড়ায় ৪০ বছরের আশেপাশে, আর তার মধ্যেই জীবনের দরজায় কড়া নাড়ে মৃত্যু।

মাত্র ২৫০ জন বাসিন্দার এই গ্রামে এখন বেঁচে থাকাটাই এক নিদারুণ অভিশাপ। কারণ এক অজানা রোগে প্রতিটি মানুষই অকালে ঝরে যান।

৫৬ বছর বয়সেও মৃত্যুর প্রহর গুনছেন ‘প্রবীণতম’ ব্যক্তি
দুধ পানিয়া গ্রামের প্রবীণতম ব্যক্তি হলেন ৫৬ বছর বয়সী বিনোদ বেসরা। কিন্তু প্রবীণ হলেও, তিনি আজ শয্যাশায়ী। ২০১৯ সাল থেকে দড়ির খাটিয়াই তাঁর সঙ্গী। বিনোদ বেসরা আজতককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হতাশা নিয়ে বলেন, “আমার সারা শরীর আস্তে আস্তে অবসন্ন হয়ে আসছে। এভাবেই পড়ে রয়েছি ২০১৯ সাল থেকে। বাড়ির বাইরেও পা রাখার ক্ষমতা নেই।”

একবার ছোট আঘাত পাওয়ার পর থেকেই তিনি পা, কোমর এবং পিঠের জোর হারাতে শুরু করেন। ডাক্তার দেখিয়েও কোনো ফল পাননি।

২৭ বছরের মেয়ে দেখলে মনে হবে বুড়ি, পরিবারের সকলের একই দশা
বিনোদ বেসরার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা—তাঁর পরিবারের বাকিরাও একই রোগে ভুগছেন। তাঁর ৪৩ বছর বয়সী স্ত্রী পূর্ণী দেবীর কোমর বেঁকে গিয়েছে। আরও মর্মান্তিক হলো, তাঁর ২৭ বছর বয়সী মেয়ে ললিতা কুমারী এবং ১৯ বছরের ছেলে ফিলিপস কুমারও এই একই ব্যাধির শিকার।

পূর্ণী দেবী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার ২৭ বছরের মেয়েকে দেখলে বুড়ি মনে হবে। কে তাকে বিয়ে করবে? ওর শরীর দিনদিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা বাঁচতে চাই। আশা করি সরকার আমাদের কথা ভাববে।”

বর্তমানে গ্রামের ৬ জন মানুষ, যাঁদের বয়স ৪৫-৫৫ বছরের মধ্যে, তাঁরা প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়ে রয়েছেন। এছাড়াও, ২৫ জনের বেশি লোক ধীরে ধীরে হাঁটার শক্তি হারাতে বসেছেন। গ্রামের প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষই লাঠি হাতে হাঁটেন, যুবক বয়স ফুরানোর আগেই।

জলের সমস্যা নাকি খনিজের অভাব? তদন্ত শুরু
সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মহকুমা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার সুবোধ কুমার জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ছিল না। পরিদর্শনের পর তিনি দেখেছেন, ২৪ থেকে ৩০ বছর বয়সী যুবকদের মধ্যে হাড়ঘটিত সমস্যা এবং পেশির যন্ত্রণা দেখা দিচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের অনুমান, ভিটামিন ও খনিজের অভাবে এ ধরনের রোগ বংশানুক্রমিকভাবে দেখা দিচ্ছে। মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের জল পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, সন্দেহ করা হচ্ছে—জলের দূষণও এই রোগের কারণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিভাগ উচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানিয়েছে এবং বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল তৈরি করে আক্রান্তদের মুঙ্গেরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে।