হিমন্তের ‘পুশব্যাক’ মন্তব্যে তুলকালাম! ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে কড়া বার্তা ঢাকার

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সাম্প্রতিক ‘বাংলাদেশি পুশব্যাক’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে কড়া বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী দেশের একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে এই ধরনের মন্তব্য দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঠিক কী বলেছিলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা? সম্প্রতি একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর (পুশব্যাক) প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সীমান্ত পার করে দেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ওপার বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

ঢাকার কড়া অবস্থান: বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত এবং উস্কানিমূলক। ঢাকার দাবি, একতরফাভাবে ‘পুশব্যাক’ বা জোর করে ফেরত পাঠানোর কথা বলে সীমান্তে উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কাউকে ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া এবং ফেরত পাঠানোর হুমকি আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

কূটনৈতিক প্রভাব: বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য সেই সম্পর্কে আরও তিক্ততা বাড়াতে পারে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য এখনও এই তলব বা ঢাকার প্রতিবাদ নিয়ে সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

সীমান্তে বাড়তি নজরদারি: অন্যদিকে, এই বিতর্কের মধ্যেই বিএসএফ (BSF) এবং বিজিবি (BGB) উভয় পক্ষই সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে। অসম ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মেরুকরণ ঘটাতেই হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই ধরনের কৌশলী মন্তব্য করেছেন।

বর্তমানে দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রক এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলায়, এখন সেটাই দেখার। তবে এই ঘটনা যে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতিবেশ-নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy