আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ফের একবার যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। আমেরিকার হুঁশিয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের তাইওয়ানের আকাশ ও জলসীমায় বড়সড় সামরিক অনুপ্রবেশ ঘটাল চিন। শুক্রবার সকাল থেকেই তাইওয়ান প্রণালীতে চিনা যুদ্ধবিমান এবং রণতরীর আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে, যা ঘিরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (MND) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তাইওয়ান প্রণালীর চারপাশে অন্তত ১২টি চিনা সামরিক বিমান এবং ৭টি রণতরী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি যুদ্ধবিমান সরাসরি তাইওয়ানের ‘এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন’ (ADIZ) বা আকাশ প্রতিরক্ষা সীমানায় ঢুকে পড়ে। চিনের এই হঠাৎ সামরিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই হাই-অ্যালার্ট জারি করেছে তাইপেই।
পাল্টা রণকৌশলে তাইওয়ান: চিনের এই আগ্রাসনের মোকাবিলায় হাত গুটিয়ে বসে নেই তাইওয়ানও। চিনা গতিবিধির ওপর নজর রাখতে তারা নিজেদের মিসাইল সিস্টেমকে সক্রিয় করেছে এবং যুদ্ধবিমানগুলিকে টহল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তাইওয়ান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিন বারবার উস্কানিমূলক আচরণ করে এই অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত করতে চাইছে।
কেন এই হঠাৎ উত্তেজনা? কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সামনেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কথা রয়েছে। সেই বৈঠকের আগেই আমেরিকাকে চাপে রাখতে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে পেশিশক্তি প্রদর্শন করছে বেজিং। সম্প্রতি চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই সাফ জানিয়েছেন, “তাইওয়ান ইস্যুই চিন-মার্কিন সম্পর্কের সবথেকে বড় ঝুঁকির জায়গা।”
বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা: রাশিয়া-ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যেই এশিয়ায় চিনের এই দাপট তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও উস্কে দিচ্ছে। যদি চিন সত্যিই তাইওয়ানে সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে তাতে আমেরিকার জড়িয়ে পড়া নিশ্চিত, যা গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
বর্তমানে তাইওয়ান প্রণালীতে পরিস্থিতি অত্যন্ত অগ্নিগর্ভ। দুই দেশের সামরিক বাহিনীই একে অপরের ওপর কড়া নজর রাখছে। এখন দেখার, ওয়াশিংটন এবং বেজিংয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে শান্ত করে না কি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়।





