৩ লক্ষের ঋণ কীভাবে হলো ৩০ লক্ষ? বরেলি হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর কিনারা করল পুলিশ

উত্তর প্রদেশের বরেলি জেলা হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়ের মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। দীর্ঘদিনের পলাতক মূল অভিযুক্ত মহাজন সুধীর কুমারকে কানপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মৃত ওয়ার্ড বয় প্রদীপ কুমারের লেখা একটি সুইসাইড নোটকে কেন্দ্র করেই এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটেছে, যেখানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হয়রানি ও মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ই মে। বরেলি জেলা হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রদীপ কুমারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতাল চত্বরে এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করলে প্রদীপের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া একটি সুইসাইড নোট মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নোটটিতে প্রদীপ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন কীভাবে বিগত দশ বছর ধরে তিনি সুধীর কুমারের পাতা ঋণের ফাঁদে আটকা পড়েছিলেন।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দশ বছর আগে প্রদীপ সুধীরের কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা ধার করেছিলেন। সুদের কারবারিদের কুখ্যাত চক্রের মতোই সুধীর সময়ের সাথে সাথে সেই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকায় দাঁড় করায়। সুইসাইড নোটে প্রদীপ লিখেছেন, ঋণের টাকা শোধ করার পরও সুধীরের ক্রমাগত চাপ, মানসিক নির্যাতন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এই চরম মানসিক পীড়া সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।

ঘটনার পরই মৃতার মেয়ে মানসী শর্মা কোতোয়ালি থানায় সুধীর কুমার ওরফে চুচুর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও হয়রানির লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আইনত মামলা নথিভুক্ত করে। মামলা দায়েরের পর থেকেই সুধীর এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেয়। তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক বিশেষ দল মাঠে নামে। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে কানপুরে তার অবস্থানের হদিস পায় পুলিশ। কানপুর রেলস্টেশনের নিকটবর্তী একটি হোটেলে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগে থেকেই জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। গ্রেপ্তারের পর তাকে বরেলিতে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হবে। পুলিশ বর্তমানে প্রদীপের অর্থনৈতিক লেনদেন এবং সুধীরের অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনায় হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাসহ সুদের কারবারিদের দৌরাত্ম্য নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।