শেক্সপিয়র বলেছিলেন, “নামে কী বা আসে যায়!” কিন্তু আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের ভোটারদের জন্য নামই এখন মাথাব্যথার কারণ। এই কেন্দ্রে ভোটযুদ্ধে লড়াই করছেন একজন নয়, দুই জন নয়, একেবারে তিন-তিনজন ‘কৃষ্ণেন্দু’। আর এই অদ্ভুত সমাপতন ঘিরেই এখন সরগরম শিল্পাঞ্চলের রাজনীতি।
মনোনয়নে বিভ্রান্তি: মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় আসানসোল মহকুমা শাসকের (SDM) দফতরে তৈরি হয় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি। আধিকারিকরা যখন ‘কৃষ্ণেন্দু’ নামটি ধরে ডাকছিলেন, তখন দেখা যায় তিন জন আলাদা আলাদা ব্যক্তি সাড়া দিচ্ছেন। এদের মধ্যে এক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বিজেপির টিকিটে লড়ছেন। দ্বিতীয় জনও কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এবং তৃতীয় জন কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়— তবে এই দু’জন লড়ছেন নির্দল হিসেবে।
বিজেপির অভিযোগ ও কটাক্ষ: এই পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। কিছুটা হেসেই তিনি বলেন, “কে আসল কৃষ্ণেন্দু, তা নিয়ে প্রথমটা আমিও ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। তবে ভালোই হয়েছে, প্রতিযোগিতা জমবে।” তবে এর পেছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধও পাচ্ছেন তিনি। তাঁর দাবি, “এটা কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং সচেতনভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করে আমাদের ভোট কাটার জন্য পরিকল্পিত চক্রান্ত।” যদিও ভোটাররা প্রতীক দেখে সঠিক প্রার্থী বেছে নেবেন বলেই তাঁর বিশ্বাস।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে একই নামের একাধিক প্রার্থী দাঁড় করানোর কৌশল ভারতের রাজনীতিতে নতুন নয়। অনেক সময় ভোটাররা তাড়াহুড়ো করে নামের মিল দেখে ভুল বোতাম টিপে দেন, যার সরাসরি সুবিধা পায় অন্য কোনও দল। আসানসোল উত্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এই ‘নাম-বিভ্রাট’ শেষ পর্যন্ত ইভিএম-এ কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।





