“৩৬০-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে মরিয়া মোদী সরকার!”-NDA-র নতুন অঙ্কে কপালে ভাঁজ বিরোধীদের

বাদল অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালেই দিল্লির রাজনীতিতে উত্তাপ তুঙ্গে। লোকসভায় বহুল প্রতীক্ষিত ‘সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল’ বা ডিলিমিটেশন বিল পাশের লক্ষ্যে নতুন করে অঙ্ক কষছে মোদী সরকার। আর এই সমীকরণে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপি-র অবস্থান ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা।
সরকারের রণকৌশল ও শরদ পাওয়ারের অবস্থান: গত এপ্রিলে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে ধাক্কা খেয়েছিল এই বিল। লোকসভার বর্তমান ৫৪০ জন সদস্যের নিরিখে বিল পাশের জন্য প্রয়োজন ৩৬০ ভোট। এই লক্ষ্য পূরণে এবার নতুন কৌশলে এগোচ্ছে এনডিএ। সবথেকে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে শরদ পাওয়ারের এনসিপি (শরদ গোষ্ঠী)। দলের সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে বিলের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, “নতুন বিল পেশ হলে তার খুঁটিনাটি দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি দেশের লোকসভা আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়, তবে সব দলের সম্মতি পাওয়া সম্ভব।”
অঙ্কের হিসেবে মোদী সরকার কতটা কাছে? বর্তমানে এনডিএ-র হাতে রয়েছে ২৯৮ জন সাংসদের সমর্থন। ৩৬০-এর জাদুকরী সংখ্যা স্পর্শ করতে প্রয়োজন আরও ৬২ জন। বর্তমান সমীকরণ বলছে:
এনডিএ-র নিজস্ব সমর্থন: ২৯৮
তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির, এনসিপি (অজিত পাওয়ার গোষ্ঠী), শিবসেনার (শিন্ডে গোষ্ঠী) সমর্থন যোগ করলে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৩৩২।
এর সাথে যদি ডিএমকে-র ২২ জন সাংসদও যুক্ত হন, তবে মোট সংখ্যা গিয়ে ঠেকবে ৩৫৪-তে।
অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় ৩৬০-এর থেকে মাত্র ৬টি আসন দূরে রয়েছে সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাভুটির সময় যদি বিরোধীদের ছোট দলগুলো অনুপস্থিত থাকে বা কৌশলগতভাবে নিজেদের সরিয়ে রাখে, তবে অনায়াসেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে মোদী সরকার।
বিল নিয়ে বিতর্ক ও লক্ষ্য: গত ১৬ এপ্রিল পেশ হওয়া এই বিল অনুযায়ী, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি, নারী শক্তি বন্দন আইনের অধীনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এখন প্রশ্ন একটাই— বাদল অধিবেশনে বিরোধী ঐক্যের দেওয়ালে কি শেষ পর্যন্ত বড় ফাটল ধরবে? নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ সব হিসাব উল্টে দেবে? নজর এখন সংসদের সেন্ট্রাল হলের দিকে।