৩৫ পেরিয়েছেন? সুস্থ থাকতে এই ৬টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা আজই করান, বড় বিপদ থেকে বাঁচবেন!

বয়স ৩৫ পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রপাতিতে ধীরগতিতে নানা পরিবর্তন আসতে শুরু করে। কর্মজীবনের চরম ব্যস্ততা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত শরীরচর্চার অভাব—সব মিলিয়ে এক অস্থির জীবনযাত্রার প্রভাবে শরীরে বাসা বাঁধে নানা অসুখ। অনেক সময় রোগের লক্ষণগুলো শুরুতে এতটা অস্পষ্ট থাকে যে আমরা তা বুঝতে পারি না। কিন্তু যখন লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়, তখন রোগ অনেকটা গভীরে চলে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করতে পারলে বড় বিপদ এড়িয়ে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পাওয়া সম্ভব। ৩৫ বছর বয়স পেরোনোর পর যে পরীক্ষাগুলো আপনার রুটিনে থাকা জরুরি, তা নিচে দেওয়া হলো:

১. এইচবিএ১সি (HbA1c) টেস্ট: বর্তমানে ডায়াবেটিস কেবল বয়স্কদের রোগ নয়। রক্তে গত তিন মাসের গড়ের মাত্রা জানতে সাধারণ সুগারের বদলে এইচবিএ১সি পরীক্ষা করা অনেক বেশি কার্যকর। এটি প্রি-ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আগেই ধরিয়ে দেয়।

২. রক্তচাপ ও লিপিড প্রোফাইল: উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। এদের কোনো বিশেষ উপসর্গ থাকে না, অথচ এগুলো হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বছরে অন্তত একবার নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা ও লিপিড প্রোফাইল করা অত্যন্ত জরুরি।

৩. লিভার ও কিডনি ফাংশন টেস্ট: ফ্যাটি লিভার ও কিডনির বিভিন্ন সমস্যা এখন সাধারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা বা এনজাইমের মাত্রা পরীক্ষা করলে বড় ধরনের জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৪. থাইরয়েড পরীক্ষা: থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি বা চুল পড়ার মতো সমস্যাগুলো থাইরয়েডের ভারসাম্যের অভাবের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত এই পরীক্ষাটি করা বাঞ্ছনীয়।

৫. ভিটামিন ডি ও বি১২ পরীক্ষা: আধুনিক জীবনযাত্রায় সূর্যালোকের অভাব ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে অনেকের শরীরেই ভিটামিন ডি ও বি১২-এর তীব্র ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এর ফলে হাড়ের ব্যথা, পেশির দুর্বলতা এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা হতে পারে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ঘাটতি ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে।

৬. ব্যক্তিগত ঝুঁকি মূল্যায়ন: প্রত্যেকের স্বাস্থ্যের গঠন আলাদা। পরিবারের কারো দীর্ঘমেয়াদী রোগের ইতিহাস থাকলে বা স্থূলতা ও ধূমপানের মতো অভ্যাস থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে আপনার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন করুন।

পরিশেষে, স্বাস্থ্য সচেতনতাই হলো দীর্ঘায়ুর মূলমন্ত্র। কোনো সমস্যা হওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত শরীর পরীক্ষা করানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। আজকের সামান্য সচেতনতা আগামী দিনের বড় চিকিৎসা ব্যয় ও কষ্ট থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে।