৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আইটিআর জমা না দিলে বড় বিপদ! জেনে নিন জরিমানার অঙ্ক

আপনি যদি একজন বেতনভোগী কর্মচারী বা করদাতা হন, তবে জেনে রাখুন চলতি অর্থবর্ষের জন্য আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিল করার শেষ সময়সীমা ৩১ জুলাই। এই নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া যেমন বাধ্যতামূলক, তেমনই সঠিক তথ্য প্রদান করাও অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই করদাতারা মনে করেন শুধু রিটার্ন ফাইল করলেই দায়মুক্তি, কিন্তু বাস্তবে ভুল তথ্য বা দেরিতে জমা দিলে বিপুল পরিমাণ জরিমানা গুনতে হতে পারে।

ভুল তথ্যের খেসারত: আয়কর আইনের ধারা ২৭০এ অনুযায়ী, আয় কম দেখালে অথবা ভুল তথ্য প্রদান করলে করদাতাকে প্রদেয় করের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে। যদি জেনেশুনে তথ্য গোপন করা হয় বা ভুয়া ছাড় দাবি করা হয়, তবে এই জরিমানার পরিমাণ ২০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ, আপনার সামান্য অসাবধানতা আপনার গচ্ছিত সঞ্চয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

দেরিতে জমা দিলে জরিমানা: আইটিআর দাখিলের নির্দিষ্ট সময়সীমার পরে ফাইল করলে ধারা ২৩৪এফ অনুযায়ী ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত লেট ফি ধার্য হতে পারে। তবে করদাতাদের স্বস্তি দিয়ে বলা হয়েছে, যাদের মোট বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার নিচে, তাদের জন্য এই জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ১,০০০ টাকা। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে এই অতিরিক্ত খরচ এড়ানো সম্ভব নয়।

অন্যান্য ক্ষেত্রেও সতর্কতা: শুধু সাধারণ করদাতাই নন, ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়া নিয়ম। টিডিএস (TDS) বা টিসিএস (TCS) রিটার্ন দেরিতে জমা দিলে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়। যারা নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী হিসাবপত্র রক্ষণাবেক্ষণ করতে ব্যর্থ হন, তাদের ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি, যাদের ট্যাক্স অডিট প্রয়োজন কিন্তু তারা তা করাতে ব্যর্থ হন, তাদের টার্নওভারের ০.৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।

করণীয়: কর বিভাগের নোটিশ বা অযথা আইনি জটিলতা এড়াতে আয়কর দপ্তরের নিয়মাবলী পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করা প্রয়োজন। আয় সম্পর্কে সমস্ত নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই করে তবেই রিটার্ন দাখিল করুন। মনে রাখবেন, সময়মতো এবং সঠিক তথ্য দিয়ে আইটিআর দাখিল করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, এটি আপনার আর্থিক স্বচ্ছতাও বজায় রাখে। তাই ৩১ জুলাইয়ের অপেক্ষা না করে আজই প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে আইটিআর ফাইল সম্পন্ন করুন।