দালালদের আস্তানা এবার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ, বেলতলা PVD নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত পরিবহণ দপ্তরের

বেলতলা পাবলিক ভেহিক্যালস ডিপার্টমেন্ট (PVD) মানেই সাধারণ মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম। বছরের পর বছর ধরে এখানে দালালের দৌরাত্ম্যই ছিল অলিখিত নিয়ম। ট্যাক্সি, বাস কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি—যেকোনো কাজের জন্য দালাল ধরতে বাধ্য হতেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু এবার সেই ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। সোমবার বেলতলা PVD পরিদর্শনে গিয়ে দালালচক্র নির্মূল করতে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং।

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, বেলতলা PVD-তে দালালদের একচ্ছত্র আধিপত্য চলে। পূর্বতন সরকারের আমলে অনলাইনে কাজ করানোর একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও দালালচক্রের দাপট বিন্দুমাত্র কমেনি। ভুক্তভোগী ট্যাক্সিচালক এবং বাসমালিকরা একাধিকবার পরিবহণ দপ্তরে অভিযোগ জানালেও এতদিন কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এদিন মন্ত্রী অর্জুন সিং সাফ জানিয়েছেন, তিনি সব খবর নিয়েছেন এবং এখানে বড়সড় পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

এদিন পরিদর্শনের পর পরিবহণমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি এখানকার পরিস্থিতির কথা সব জেনেছি। সত্যিই এখানে একটি ‘ঘুঘুর বাসা’ তৈরি হয়েছে। দালালচক্র বন্ধ করাটাই আমার কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।” তিনি আরও বলেন, “কাজ না হলে প্রয়োজনে এই দপ্তর এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।” মন্ত্রী মনে করেন, এখানকার পরিবেশ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষ এখানে এলেই এক বিরূপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। এই পরিবেশ পরিবর্তন করা এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

দালালচক্র ভাঙতে মন্ত্রী একাধিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। প্রথমত, গোটা চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে এবং প্রতিটি কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হবে। দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে একটি হেল্প ডেস্ক তৈরি করা হবে। এছাড়া, PVD-র সামনে যেসব ব্যক্তি গাড়ি সংক্রান্ত কাজের নামে ভিড় করেন এবং বাড়তি টাকা দাবি করেন, তাঁদের উচ্ছেদের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। মন্ত্রীর কথায়, “রোজগারের নামে যদি অতিরিক্ত জুলুম করা হয়, তবে তা বরদাস্ত করা হবে না।”

বেলতলার এই ভোলবদল প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। সাধারণ মানুষ এবং পরিবহণ ব্যবসায়ীদের একাংশ মন্ত্রীর এই কড়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, সিসিটিভি ও হেল্প ডেস্কে ভর করে কত দ্রুত বেলতলার এই দালালমুক্ত পরিবেশ গড়ে ওঠে। পরিবহণ দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই সংস্কার কাজ পুরোদমে শুরু হবে। দালালের দৌরাত্ম্য রুখতে দপ্তর যে এবার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, তা এদিন মন্ত্রীর মন্তব্যে স্পষ্ট।