৩১ জুলাইয়ের আগেই সাবধান! আয়কর রিটার্ন নিয়ে বিরাট আপডেট, না করলেই বড় বিপদের মুখে পড়বেন?

আর্থিক বছর ২০২৬-২৭-এর জন্য ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার শেষ তারিখ যতই এগিয়ে আসছে, ততই দ্রুত হারে রিটার্ন জমা দিচ্ছেন দেশের সচেতন করদাতারা। আয়কর বিভাগের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩ কোটিরও বেশি ITR জমা পড়েছে। শুধু গত ২১ জুলাই একদিনেই ১৫ লক্ষেরও বেশি রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে। চলতি বছরে ITR-1 এবং ITR-2 জমা দেওয়ার একেবারে শেষ তারিখ আগামী ৩১ জুলাই, ২০২৬। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য এবং শেষ মুহূর্তের সার্ভার ডাউন বা জট এড়াতে আয়কর বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত রিটার্ন ফাইল করার কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
সাধারণত নতুন কর ব্যবস্থায় বার্ষিক আয় ৪ লক্ষ টাকার বেশি এবং পুরনো কর ব্যবস্থায় ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু অনেক সাধারণ নাগরিকের ধারণা থাকে যে, তাঁদের বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলে ITR জমা দিতে হবে না। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আয়কর আইন, ১৯৬১-এর ধারা ১৩৯(১) অনুযায়ী, আপনার মোট আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকা সত্ত্বেও যদি নির্দিষ্ট কয়েকটি বিশেষ পরিস্থিতি বা আর্থিক লেনদেন থাকে, তবে ITR জমা দেওয়া সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক।
প্রথমত, যদি আপনার কোনও একটি বা একাধিক ব্যাঙ্ক বা সমবায় ব্যাঙ্কের কারেন্ট অ্যাকাউন্টে পুরো আর্থিক বছরে ১ কোটির বেশি টাকা জমা হয়, তবে আপনাকে অবশ্যই ITR ফাইল করতে হবে। বড় অঙ্কের এই ধরনের আর্থিক লেনদেনের উপর কড়া নজরদারি রাখতেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আপনি যদি নিজের বা অন্য কারও বিদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে মোট ২ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করে থাকেন, যার মধ্যে বিমান ভাড়া, হোটেল বা ট্যুর প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত, তবে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।
তৃতীয়ত, কোনও ব্যক্তির বার্ষিক বিদ্যুৎ বিল যদি ১ লক্ষ টাকার বেশি হয়, তবে তাঁর আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকলেও আইটিআর দিতে হবে। চতুর্থত, আর্থিক বছরে TDS এবং TCS কাটার পরিমাণ যদি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে— যেমন ৬০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ২৫,০০০ টাকা বা প্রবীণদের ক্ষেত্রে ৫০,০০০ টাকা— তবে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। পঞ্চমত, এক বা একাধিক সেভিংস অ্যাকাউন্টে যদি মোট ৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জমা হয়, তবে আয় কম হলেও রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এছাড়া, বিদেশে কোনও সম্পত্তি, আর্থিক স্বার্থ বা বিদেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অধিকার থাকলেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।
আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও সময়মতো ITR জমা দেওয়ার একাধিক বড় সুবিধা রয়েছে। এটি যেকোনো ধরনের লোন যেমন হোম লোন, পার্সোনাল লোন বা কার লোন পাওয়ার সময় শক্তিশালী আয়ের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি, বিদেশ ভ্রমণের জন্য ভিসা আবেদন করতে সুবিধা হয় এবং অতিরিক্ত কাটা TDS-এর টাকা রিফান্ড হিসাবে ফেরত পাওয়া যায়।