রাজ্য রাজনীতিতে আজ ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বিধানসভার অন্দরে একে একে শপথ নিলেন নবনির্বাচিত বিধায়করা। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে প্রথমে শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর একে একে অন্যান্য মন্ত্রী ও বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্ব শুরু হয়। তবে এই পুরো অনুষ্ঠানের মধ্যে সবার নজর কেড়ে নিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তাঁর গলায় ঝোলানো জোড়া পরিচয়পত্র এবং মুখ্যমন্ত্রীর জন্য আনা বিশেষ উপহার ঘিরে আজ বিধানসভা চত্বরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়।
এবারের নির্বাচনে এক অনন্য নজির গড়েছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি মুর্শিদাবাদের নওদা এবং রেজিনগর—এই দুটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছেন। আজ যখন তিনি শপথ নিতে বিধানসভায় আসেন, তখন তাঁর গলায় দেখা যায় দুটি আলাদা আইডি কার্ড। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজেই সেই রহস্য ফাঁস করেন। হুমায়ুন জানান, দুটি কেন্দ্র থেকে জিতলেও তিনি আজ নওদা (৭৪ নম্বর কেন্দ্র) বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবেই শপথ নিচ্ছেন।
তবে শুধু শপথ নিতেই আসেননি তিনি, সাথে এনেছিলেন মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত মনোহরা মিষ্টি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য নিজের জেলার সেরা মিষ্টান্ন উপহার হিসেবে নিয়ে আসেন এই দাপুটে নেতা। তিনি বলেন, “নতুন দল তৈরি করে দুটো আসনেই মানুষের আশীর্বাদ পেয়েছি। এই জয়ের আনন্দ অনেক বেশি।” সেই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, খুব শীঘ্রই তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেবেন এবং সেখানে যাতে দ্রুত উপনির্বাচন হয়, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানাবেন।
শপথ নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক আক্রমণ শানাতেও ছাড়েননি হুমায়ুন। কড়া সুরে তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে। এই পরিবর্তনের জন্য আমি সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানাই।” তাঁর এই মন্তব্য এবং বিধানসভায় মিষ্টি নিয়ে আসার ঘটনাটি আজকের দিনে সবথেকে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যখন শাসক ও বিরোধী শিবিরের বিধায়করা শপথ নিচ্ছিলেন, তখন হুমায়ুন কবীরের এই ‘ডবল আইডি কার্ড’ লুক সোশ্যাল মিডিয়ায় নিমেষেই ভাইরাল হয়ে যায়।





