বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক দিন। দীর্ঘ জল্পনা ও নির্বাচনী লড়াইয়ের পর, আজ বিধানসভার পবিত্র আঙিনায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার কার্যনির্বাহী বা প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।
এবারের নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের শপথ গ্রহণের জন্য দুই দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ অর্থাৎ বুধবার থেকে বিধানসভায় এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামীকাল পর্যন্ত। বিধানসভার মোট ২৯০ জন নবনির্বাচিত বিধায়ক এই দুই দিনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তাঁদের শপথ সম্পন্ন করবেন। সংসদীয় রীতিনীতি মেনে আজ সকালেই বিধানসভায় উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর প্রোটেম স্পিকারের কক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই বিধানসভা চত্বরে ছিল সাজ সাজ রব। কড়া নিরাপত্তা এবং কঠোর প্রোটোকলের মধ্য দিয়ে জয়ী প্রার্থীরা একে একে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা। সূত্রের খবর, প্রথম দিনে মূলত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা শপথ নিচ্ছেন। বাকি বিধায়কদের শপথ আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় জানান, সংবিধান এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া এবং বিপুল সংখ্যক বিধায়কের এই অভিষেক অনুষ্ঠান রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চালচিত্রকে আমূল বদলে দিতে পারে। সাধারণ মানুষের নজর এখন বিধানসভার দিকে, কারণ শপথ শেষ হলেই শুরু হবে নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ কাজকর্ম এবং মন্ত্রিসভা গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া।





