পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক অলিন্দে এখন নতুন হাওয়া। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পরই সোমবার নবান্নে পা রেখেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর প্রথম দিন থেকেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসনে ‘ঢিলেমি’র দিন শেষ। সোমবার মন্ত্রী এবং পুলিশ-প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠকের পর, সরকারি কর্মীদের অফিসের সময়সীমা নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে নতুন সরকার।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নবান্নের সমস্ত সরকারি কর্মীকে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে অফিসে প্রবেশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শুধু ঢোকার ক্ষেত্রেই নয়, বেরোনোর ক্ষেত্রেও জারি হয়েছে বিধি। জানানো হয়েছে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে কোনো কর্মী অফিস চত্বর ত্যাগ করতে পারবেন না। বুধবার ছিল এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর প্রথম পূর্ণ কর্মদিবস। আর দিনভর নবান্নের করিডোরে যে তৎপরতা দেখা গেল, তা গত কয়েক দশকে বিরল।
বুধবার সকাল থেকেই দেখা যায়, কর্মীদের মধ্যে ঘড়ি ধরে অফিসে পৌঁছানোর এক অভূতপূর্ব ব্যস্ততা। সিংহভাগ কর্মী ১০টা ১৫ মিনিটের আগেই নিজেদের ডেস্কে বসে পড়েছেন। তবে অভ্যাসবশত বা যানজটের কারণে কিছু কর্মীকে ১০টা ৪৮ মিনিট পর্যন্তও নবান্নে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। সূত্রের খবর, এই বিলম্বিত উপস্থিতির তালিকাও তৈরি হচ্ছে। ফলে নবান্নের অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন— নিয়মে কি কোনো ছাড় মিলবে, নাকি শৃঙ্খলার খাঁড়া নামবে অবাধ্যদের ওপর?
তবে এই কড়া নিয়মকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি কর্মীদেরই একাংশ। তাঁদের মতে, প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে এমন অনুশাসন এলে কাজের গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবার মান উন্নত হবে। শৃঙ্খলাবদ্ধ কাজের পরিবেশ দীর্ঘদিনের দাবি ছিল অনেকের।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক তৎপরতার সমান্তরালে বুধবার বিধানসভাও ছিল সরগরম। এদিন বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন জয়ী প্রার্থীরা। বিধানসভায় প্রবেশের মুহূর্তে সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। এরপর নিজের নির্দিষ্ট ঘরে ঢুকে তিনি পুজোও দেন। শপথ গ্রহণ পর্বে প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী নিজে এবং পরে তাঁর মন্ত্রিসভার পাঁচ সদস্য— দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামাণিক শপথ বাক্য পাঠ করেন। এরপর জেলাভিত্তিক শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া চলে। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবারও চলবে এই অনুষ্ঠান। সব মিলিয়ে, একদিকে বিধানসভার ঐতিহ্য আর অন্যদিকে নবান্নের কড়া শাসন— দুইয়ে মিলে এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়ের সূচনা হলো বাংলায়।





