“২ কোটি বাজেটের এই ছবি ছুঁল ১০০ কোটি”-স্টিভ জবসের এককথায় বদলে গেল ভাগ্য!

বলিউড ও হলিউডের হাজার কোটি টাকার বিগ বাজেটের ছবি এবং তারকাখচিত সিনেমার দাপটের মাঝে বক্স অফিসে এক অবিশ্বাস্য বিপ্লব ঘটিয়েছে ছোট্ট একটি ছবি—‘হনুমান অংশ’। যেখানে কোনও বড় তারকা বা চেনা মুখ ছিল না, ছিল না কোনো বিশাল প্রচারের ঝলকানি, সেখানে শুধুমাত্র বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার জোরে ছবিটি ১০০ কোটির গণ্ডি পার করে ফেলেছে।

কীভাবে সাফল্যের শিখরে ‘হনুমান অংশ’? মাত্র ২ কোটি টাকা খরচ করে এই ছবিটি নির্মাণ করেছিলেন ২১ বছর বয়সি তরুণী প্রযোজক অনুপ্রিয়া নগর। অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জোবসের মুখ থেকে বিখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু নিম করোলি বাবার গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হন তিনি। ১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সমাহিত হওয়া এই সন্তকে ঘিরে আজও রয়েছে অসংখ্য লৌকিক-অলৌকিক কাহিনি। শোনা যায়, জীবনের কঠিন সময়ে স্টিভ জোবস বা মার্ক জাকারবার্গের মতো ব্যক্তিত্বরাও তাঁর আশ্রমে এসেছিলেন। পরিচালক বিশাল চতুর্বেদীর সাহসিকতায় তৈরি এই ছবি প্রথম দিকে হাতে গোনা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও, পরে লোকমুখের প্রচার ও মানুষের বিশ্বাসের জোরেই সিনেমা হলগুলিতে উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়। পরিচালক এই ছবির সেটে আমিষ খাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন এবং পরিচালনার জন্য কোনো পারিশ্রমিকও নেননি। ১৯৭৫ সালের কাল্ট ছবি ‘জয় সন্তোষী মা’-এর অনুপ্রেরণায় তৈরি এই সিনেমা প্রমাণ করে দিল যে বিষয়বস্তু শক্তিশালী হলে তারকা ছাড়াই ছবি সুপারহিট হতে পারে।

কম বাজেটে আকাশছোঁয়া আয়ের অন্য উদাহরণ শুধু ‘হনুমান অংশ’ নয়, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে বড় বাজেটের ছবিকে পেছনে ফেলে বক্স অফিসে রাজত্ব করছে একাধিক কম বাজেটের আধ্যাত্মিক ও বিশ্বাসভিত্তিক ছবি।

  • ইরুমুডি: প্রায় ৩৫-৪০ কোটি টাকা বাজেটে তৈরি এই অ্যাকশন-ড্রামা ছবিটির সংগ্রহ ছাড়িয়েছে ২২২ কোটি টাকা। এক মদ্যপ বাবার জীবনের রূপান্তর এবং বাবা-মেয়ের আবেগের গল্প দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

  • লালো – কৃষ্ণ সদা সহায়: মাত্র ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুজরাটি ছবিটি আয় করেছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। এক সাধারণ অটোচালকের জীবনে শ্রীকৃষ্ণের উপস্থিতির এই গল্প সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে।

চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে স্টার কালচার বা তারকা নির্ভরতার দিন ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। পারিবারিক সমস্যা, আত্মিক শান্তি এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জীবনের বাস্তবতাকে মেলবন্ধন ঘটিয়ে তৈরি এই ধরনের ‘ফেইথ-বেসড সিনেমা’গুলিই ভবিষ্যতে বিনোদন জগতের অন্যতম লাভজনক ধারা হয়ে উঠতে চলেছে।