ব্রিকসে ঢুকতে মরিয়া পাকিস্তান! মোদীর কড়া আপত্তিতে ভেস্তে গেল ইসলামাবাদের সমস্ত পরিকল্পনা?

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসে (BRICS) যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেও এখনও পর্যন্ত সফল হয়নি পাকিস্তান। প্রায় তিন বছর আগে ২০২৩ সালে ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু আজও সেই আবেদন কার্যকর হয়নি। পাকিস্তানের এই আন্তর্জাতিক পদক্ষেপে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের তীব্র আপত্তি। বর্তমানে ব্রিকসের সম্প্রসারিত কাঠামোয় ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলিও যুক্ত রয়েছে। কিন্তু ইসলামাবাদের আবেদন এখনও ঝুলেই রয়েছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করা হয়েছিল। সে সময় দেশটির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ জানিয়েছিলেন, ব্রিকসের অধিকাংশ সদস্য দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের সুসম্পর্ক রয়েছে। অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বিশ্বব্যাঙ্ক কিংবা আইএমএফের ওপর নির্ভরতা কমাতে মরিয়া পাকিস্তান। এমনকি ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কে প্রায় ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারিত্বও কিনেছে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চিনের সমর্থন আদায় করেও পাকিস্তান সফল হতে পারেনি কারণ ব্রিকসের সদস্য গ্রহণের নিয়ম অত্যন্ত কঠোর। নতুন কোনো দেশকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে বর্তমান সমস্ত সদস্য দেশের সর্বসম্মত সম্মতি প্রয়োজন। আর এখানেই সবচেয়ে বড় প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব এই জোটের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট। ভারতের স্পষ্ট আপত্তির কারণে পাকিস্তানের আবেদন এগোতে পারেনি।
উল্লেখ্য, ব্রিকস আজ কেবল কয়েকটি দেশের অর্থনৈতিক মঞ্চ নয়। সম্প্রসারণের পর এই জোট বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যা এবং ক্রয়ক্ষমতার সামঞ্জস্য বা পিপিপি অনুযায়ী প্রায় ৪০ শতাংশ বৈশ্বিক জিডিপির প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে এই প্রভাবশালী জোটে প্রবেশ পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কিন্তু ভারতের বিরোধিতার মুখে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদের ব্রিকসে প্রবেশের পথ যে আগামী দিনেও অত্যন্ত কঠিন হবে, তা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।