বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না!’ গণেশ পুজোর মঞ্চ থেকে সরাসরি হুঙ্কার শুভেন্দুর!

দুর্গাপুজোর মণ্ডপের পাশে মার্কসীয় সাহিত্যের বইয়ের স্টল বসাতে গেলে ‘দুর্গাপুজো’ শব্দটিই স্পষ্টভাবে লিখতে হবে, শারদোৎসব লিখলে কোনোভাবেই চলবে না। সম্প্রতি বিধানসভায় বাম দলগুলির জন্য এমনই এক অভিনব ও কড়া ‘শর্ত’ বেঁধে দেওয়ার নিদান দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর শনিবার কেষ্টপুরে একটি গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বামেদের বুক স্টল এবং তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নীতি নিয়ে ফের একবার তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।
এদিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, লাল শালু টানিয়ে কতগুলো বয়স্ক লোককে বসিয়ে রাখা হয়, কিন্তু সেই স্টলের টেবিলে স্বামী বিবেকানন্দ, প্রভু বুদ্ধ, স্বামী প্রণবানন্দ কিংবা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রকাশিত কোনো বই খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেখানে মার্কস বা মাও সে তুং-এর বই সাজানো থাকে, অথচ আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতির কোনো ছোঁয়া থাকে না।
গণেশ পুজোর উদ্বোধনে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা প্রথা মেনে এবং হিন্দু রীতি মেনেই সমস্ত উৎসবের উদ্বোধন করি। তিনি মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হওয়ার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট ইতিহাস রয়েছে এবং এটি মূলত বাঙালি হিন্দুদের হোমল্যান্ড। যারা এই ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিল, আমরা সেই শিকড় ও পরম্পরাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনতে চাই। ওপার বাংলার সনাতনীদের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের অবস্থাও বহুলাংশে একইরকম হতে পারত।
বামেদের অতীত রাজত্বকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ৩৪ বছরের বাম জমানায় যারা আমাদের পুজো লিখতে বাধা দিত, তারাই আবার পুজোর প্যান্ডেলের ঠিক দূরে লাল শালু টাঙিয়ে বসে থাকত। সেই স্টলগুলিতে বিবেকানন্দের বই মেলে না, মেলে কার্ল মার্কসের বই। অষ্টমী বা পুজোর দিনগুলিতে ঐতিহ্যবাহী পরম্পরা ফিরিয়ে আনার কাজ আমাদের সবাইকে মিলে করতে হবে। গণপতি বাপ্পা থেকে শুরু করে দুর্গাপূজা এবং ছট পুজো—সব উৎসবই সবার জন্য উন্মুক্ত, এবং আমরা সকলেই এক সূত্রে গাঁথা।