২৭ বছর আগের দুর্যোগ ফিরল উত্তরবঙ্গে! ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আজ আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টি, সমুদ্রে যেতে মানা মৎস্যজীবীদের!

পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই প্রকৃতির ‘রোষে’ বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ। একটানা ভারী বৃষ্টিতে বানভাসী উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি শক্তি হারিয়ে বর্তমানে উত্তর বিহারে ঘূর্ণাবর্ত রূপে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আজও উত্তরবঙ্গের বহু জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ভয়াবহ বৃষ্টির রেকর্ড, ফিরল ১৯৯৮-এর ছবি
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ১২ ঘণ্টায় ২৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় দেখা যায়নি। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি শেষবার দেখা গিয়েছিল ২৭ বছর আগে, ১৯৯৮ সালে।

এই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে সোমবারও সমুদ্র উত্তাল থাকবে। তাই উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বাংলা এবং ওড়িশার মৎস্যজীবীদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া: আজ ‘রেড অ্যালার্ট’
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকবে উত্তরবঙ্গে।

আলিপুরদুয়ারে প্রবল বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার কারণে দুর্যোগের পরিমাণ বেশি থাকবে। এখানে এদিন ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারেও অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে উত্তরের সমস্ত জেলাতেই।

সিকিম থেকে শুরু করে অসম ও মেঘালয়ে প্রবল বৃষ্টির কারণে দার্জিলিং-সহ পার্বত্য এলাকায় নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। নদীর জলস্তর আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে, আশার খবর হলো— মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই কমবে উত্তরবঙ্গে।

দক্ষিণবঙ্গেও বিক্ষিপ্ত দুর্যোগ
দক্ষিণবঙ্গেও আকাশ মেঘলা থাকবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উপকূলের দুই জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আজ ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতেও আজ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

আগামী দু’দিন দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্রই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

তবে বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই কমবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।