‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামকরণের জল্পনা আর তেলের বাজারে আগুন, কোথায় থামবে ইরান-মার্কিন সংঘাত?

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফের এক নাটকীয় মোড়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মাঝেই ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ হয়তো সমাপ্তির পথে। তবে অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতি এবং সৈন্য মোতায়েনের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ স্থানীয় সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান যুদ্ধ সমাপ্তি হিসেবে ঘোষণা করা উচিত কি না। গত কয়েক মাস ধরে চলা এই অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিয়েছে। তবে এই যুদ্ধ সমাপ্তির আলোচনার বিপরীত চিত্রও রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার উপস্থিতির মেয়াদ আরও বাড়িয়ে চলেছেন। এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব এই সংঘাতকে এখনই পুরোপুরি থামানোর পক্ষপাতী নয়, বরং তা আগামী বছর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের বয়স ইতোমধ্যে সাত মাস পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সামরিক উত্তেজনার ফলে বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম লাগামছাড়াভাবে বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এই ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে রিপब्लिकান নেতা ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার কথা বিবেচনা করেছিলেন। পূর্ববর্তী সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরান যদি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়, তবে ওয়াশিংটন এই সংঘাতের ইতি টানতে প্রস্তুত ছিল।
এদিকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও নাম পরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি এই জলপথকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন। এমনকি তিনি মজাচ্ছলে বা প্রতীকীভাবে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ রাখারও প্রস্তাব দেন। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে এবং এর নাম পরিবর্তন করা উচিত কি না, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
তবে এই রাজনৈতিক বাগযুদ্ধের বাইরে মাটির বাস্তবায়ন অত্যন্ত ভয়াবহ। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক হামলা না চালানোর কঠোরWarnings দিলেও তেহরান পিছপা হয়নি। উল্টো তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লাগাতার টার্গেট করে চলেছে। সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সেনা ঘাঁটিতেও জোরালো হামলা চালিয়েছে ইরান। অন্যদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে মার্কিন বাহিনী দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল, যদিও মার্কিন সেনার পক্ষ থেকে এই দাবির কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে যুদ্ধর মেঘ কাটছে না, বরং কूटনৈতিক আলোচনা এবং সামরিক উত্তেজনার এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বে আটকে রয়েছে গোটা বিশ্ব। ট্রাম্প প্রশাসন সত্যিই এই সংঘাতের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে কি না, নাকি মধ্যপ্রাচ্য আরও দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দিকে এগোচ্ছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।