জোড়া মঞ্চে বেনজির আক্রমণ! একুশের প্রতিষ্ঠা দিবসের পরই তৃণমূলে বেজে উঠল কোন ভাঙনের সুর?

একুশে জুলাইয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ২৮ আগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস ঘিরে ফের প্রকাশ্যে চলে এল শাসকদলের তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব। এদিন রাজ্যে দুটি আলাদা মঞ্চে উদযাপিত হলো তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। একদিকে ছিল কালীঘাটপন্থী মূল তৃণমূল শিবির, আর অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী শিবির। দুই ভিন্ন মঞ্চ থেকে দুই শিবিরের শীর্ষ নেতারা যেভাবে একে অপরকে আক্রমণ করলেন, তা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কার্যতই বেনজির ভাষায় আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা রাজ্য রাজনীতি।
কালীঘাটের মূল মঞ্চ থেকে দলের কড়া বার্তা দিয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, দলের সঙ্গে অতীতে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের কোনো অবস্থাতেই আগামী দিনে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “আমি বুক ঠুকে বলে যাচ্ছি, সর্বোচ্চ নেত্রী তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এই একজন বেইমানকেও আগামী দিন দলে ফেরত নেওয়া হবে না। নেত্রী যা ঠিক করবেন সেটাই শিরোধার্য।” একই সুরে আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ ঋতব্রত শিবিরকে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করে বলেন, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে তাদের তাড়ানো হবে এবং তৃণমূলের প্রকৃত ক্ষমতা কী, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, এই আক্রমণের জুতসই ও তীব্র প্রতিবাদের সুর শোনা গিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চ থেকেও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ঋতব্রত বলেন, যদি তিনি আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে তাঁর জামানত জব্দ হওয়া থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। শুধু তাই নয়, অভিষেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে ঋতব্রত কটাক্ষ করে বলেন যে, ইউজিসি (UGC)-র নিয়ম অনুযায়ী তাঁর ডিগ্রি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে নিয়েও চরম রাজনৈতিক ব্যঙ্গ করতে ছাড়েননি তিনি।
এই তীব্র কোন্দলের মাঝেই ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম মুখ ফিরহাদ হাকিম অভিষেকের ‘বেইমান’ মন্তব্যের জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বেইমানি করা হয়নি। বরং তাঁরা খাস রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে সম্পূর্ণভাবে গণতন্ত্রের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। অধিকাংশ বিধায়কদের মতকে গুরুত্ব দিয়েই তাঁরা ঋতব্রতকে নিজেদের নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
এদিনের এই জোড়া রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ‘গদ্দার’, ‘বেইমান’, ‘বালিশ চাটা’ বা ভুয়ো ডিগ্রির মতো তীব্র শব্দবানে চড়েছিল পারদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের অন্দরের এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব এবং একে অপরের প্রতি এই কর্কশ আক্রমণ আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে এক বড়সড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা তৃণমূলের অন্দরের বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।