সাইবেরিয়ার জমাট বাঁধা বরফ বা পারমাফ্রস্ট যেন এক আদিম টাইম মেশিন। রাশিয়ার সয়েল ক্রায়োলজি ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আলাজেয়া নদীর তীরে প্রায় ১২ ফুট গভীর বরফ খুঁড়ে বের করেছেন এক বিস্ময়। কার্বন ডেটিং বলছে, এই বরফের বয়স প্রায় ২৪ হাজার বছর। যখন পৃথিবীতে ম্যামথরা ঘুরে বেড়াত, সেই সময়ের এক ফোঁটা জলে আটকে গিয়েছিল এক অতিক্ষুদ্র বহুকোষী জীব—ডেলয়েড রোটিফার।
২৪ হাজার বছরের ঘুম ভাঙল যেভাবে
বিজ্ঞানীরা ল্যাবে পেট্রি ডিশে সেই প্রাচীন বরফ গলাতেই ঘটল অলৌকিক ঘটনা। কয়েক সপ্তাহ পর মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা গেল, খালি চোখে দেখা যায় না এমন সেই প্রাণীটি দিব্যি নড়াচড়া করছে, খাবার খাচ্ছে! এমনকি ‘পার্থেনোজেনেসিস’ পদ্ধতিতে পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই নিজের প্রতিলিপি বা বাচ্চা জন্ম দিচ্ছে সে।
ক্রিপ্টোবায়োসিস: মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা
এই অলৌকিক ক্ষমতার নাম ‘ক্রিপ্টোবায়োসিস’ বা গুপ্ত জীবন। প্রতিকূল পরিবেশে এরা শরীর থেকে জল বের করে দিয়ে বিপাকীয় হার বা মেটাবলিজম শূন্যে নামিয়ে আনে। অনেকটা ইলেকট্রনিক যন্ত্র ‘সুইচ অফ’ করার মতো। হাজার হাজার বছর এই অবস্থায় কাটিয়ে উপযুক্ত পরিবেশ পেলেই এরা আবার ‘সুইচ অন’ হয়ে জেগে ওঠে। গবেষক স্ট্যাস মালাভিন জানান, এটি বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিশ্বরেকর্ড।
কেন এই আবিষ্কার যুগান্তকারী?
১. অঙ্গ প্রতিস্থাপন: এই রহস্য উন্মোচিত হলে মানুষের হৃদপিণ্ড বা কিডনি বছরের পর বছর হিমায়িত করে রাখা সম্ভব হবে।
২. মহাকাশ বিজ্ঞান: ভিনগ্রহের অভিযানে মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী ‘হাইবারনেশনে’ পাঠানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে এই ক্ষুদ্র জীব।
৩. মহামারীর সতর্কতা: তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। উষ্ণায়নের ফলে সাইবেরিয়ার বরফ গললে প্রাচীন ভাইরাস বা অ্যানথ্রাক্সের মতো মারণ জীবাণু জেগে উঠে নতুন মহামারী ডেকে আনতে পারে, যা মানবজাতির জন্য চরম বিপদ সংকেত।





