২৩টি প্ল্যাটফর্ম, দৈনিক ১০০০-এর বেশি ট্রেন, কেন দেশের সবথেকে ব্যস্ত স্টেশন হলো কলকাতার হাওড়া জংশন?

আমাদের দেশের রেল নেটওয়ার্ক বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম, যা ভারতবাসীর ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী এবং পণ্যবাহী ট্রেন নিয়ে ছুটে চলা এই নেটওয়ার্কের মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ততম স্টেশন কোনটি—এই প্রশ্ন মনে আসা স্বাভাবিক। মুম্বইয়ের বৃহত্তম সাব-আর্বান নেটওয়ার্ক বা দিল্লির ব্যস্ততম জংশন নয়, যাত্রী এবং ট্রেনের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে হাওড়া জংশন (Howrah Junction)।

মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস থেকে প্রায় ১ হাজার ৯৬০ কিলোমিটার দূরের হাওড়া জংশনই হলো দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম রেল স্টেশন।

হাওড়া কেন দেশের লাইফলাইন?
১৮৫৪ সালে চালু হওয়া হাওড়া স্টেশন দেশের অন্যতম প্রাচীনতম স্টেশনগুলির মধ্যে অন্যতম। এর ব্যস্ততার কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:

রেকর্ড সংখ্যক প্ল্যাটফর্ম: হাওড়া স্টেশনে বর্তমানে রয়েছে ২৩টি প্ল্যাটফর্ম। দেশের আর কোনও স্টেশনে এত সংখ্যক প্ল্যাটফর্ম নেই।

বিশাল যাত্রী ও ট্রেন সংখ্যা: প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি ট্রেন এই স্টেশন থেকে যাতায়াত করে এবং যাত্রী সংখ্যা প্রতিদিন ১০ লক্ষেরও বেশি! এই বিপুল ভিড় হাওড়াকে পূর্ব ভারতের লাইফলাইন করে তুলেছে।

স্বর্ণ চতুর্ভূজের সংযোগ: হাওড়া স্টেশন শুধুমাত্র একটি ডিভিশন বা জোনের অধীনে আসে না। এটি পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়গপুর ডিভিশনের প্রান্তিক স্টেশন। এই দুই রুট হলো ভারতের সোনালী চতুর্ভূজের দুটি বাহু, ফলে এই দুই রুটেই ট্র্যাফিক অত্যন্ত বেশি।

জাতীয় গর্বের প্রতীক হাওড়া স্টেশন
হাওড়া স্টেশন কলকাতাকে দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদের মতো দেশের প্রায় সব বড় শহরের সঙ্গে যুক্ত করে। শুধু দূরপাল্লার ট্রেনই নয়, শহরতলীর লক্ষ লক্ষ নিত্যযাত্রীর ভিড়ও সামলাতে হয় এই স্টেশনকে, যা এর ব্যস্ততা আরও বাড়িয়ে দেয়।

দেশের অন্যান্য বড় স্টেশন যেমন দিল্লি বা মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাসও খুব ব্যস্ত, তবে যাত্রী ও ট্রেনের সংখ্যায় হাওড়া সবাইকে ছাড়িয়ে যায়। রবীন্দ্র সেতুকে সাক্ষী রেখে শতাব্দী প্রাচীন এই স্টেশন শুধুমাত্র দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্র নয়, এটি আমাদের জাতীয় গর্বের প্রতীক।