নববধূর মুণ্ডু কেটে ফ্রিজে! পুলিশের ভ্যান থেকে চলন্ত অবস্থাতেই লাফ দিয়ে ‘খুনি’ স্বামীর রহস্যমৃত্যু

রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নাটকীয় ও পৈশাচিক সমাপ্তি ঘটল। নববধূর মাথা ও হাত কেটে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার ভয়াবহ ঘটনার মূল অভিযুক্ত পুলিশের হেফাজত থেকে রহস্যজনকভাবে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত সোমবার ভোররাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সি রামানুজ গোস্বামীকে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানোর পর হাতিগাঁও থানায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই এই কাণ্ড ঘটে। পুলিশের ভ্যানের ভেতরেই আইনরক্ষকদের ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা চালিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে বাইরে ঝাঁপ দেন অভিযুক্ত। এর জেরে নিকটবর্তী একটি গভীর খালে সজোরে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পুলিশ তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত গত ৬ সেপ্টেম্বর। আসামের গুয়াহাটির হাতিগাঁও এলাকার একটি আবাসিক বাড়ি থেকে অসহ্য পচা দুর্গন্ধ বের হওয়ায় প্রতিবেশীরা স্থানীয় থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে সেই বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে ২৫ বছর বয়সি এক নববধূর পচাগলা ও বিকৃত মৃতদেহ উদ্ধার করে। নিহত ওই তরুণীর নাম রিয়া তালুকদার। স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী, গত শুক্রবারই শেষবার ওই নবদম্পতিকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। পুলিশের অনুমান, সেদিন রাতেই এই নৃশংস খুনটি সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক ছিলেন। পুলিশ ওই বাড়িতে প্রবেশ করতেই দেখের লোমকূপ খাড়া করে দেওয়া দৃশ্য। নববধূর মুণ্ডুহীন দেহের খণ্ডিত অংশের পাশাপাশি তাঁর হাতের আঙুলগুলিও কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর গোটা ঘর তল্লাশি করে ফ্রিজের ভেতর একটি প্লাস্টিকের থলের মধ্যে থেকে কাটা মুণ্ডুটি উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনার পরেই দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। অবশেষে গত রবিবার রাতে অভিযুক্ত স্বামী রামানুজ গোস্বামী নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে। তাঁকে গ্রেফতারে পর পুলিশ যখন ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আদালতে যাচ্ছিল, তখন সংবাদমাধ্যমের সামনে সে নির্লজ্জের মতো চিৎকার করে বলে ওঠে, “জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর, ওই সুগার ড্যাডিকেও শেষ করব। আমার কোনো অনুশোচনা নেই, ক্ষমাও চাওয়ার নেই।” তবে এই খুনের নেপথ্যে থাকা রহস্যময় ‘সুগার ড্যাডি’ আসলে কে এবং ঠিক কী কারণে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটল, তা উদঘাটন করতে পুলিশ যখন দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছিল, ঠিক তখনই এই আকস্মিক মৃত্যু গোটা তদন্ত প্রক্রিয়াকে এক অদ্ভুত মোড় এনে দিল।