একদিকে ভারতের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও নেপালে ‘আম কূটনীতি’, অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকারে আঘাত—এই জোড়া সংকটে উত্তাল বাংলাদেশ। দিল্লির সাথে সম্পর্কের দোলাচলের মধ্যেই নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ১৭৫০ কেজি আম পাঠিয়েছেন তারেক রহমান। তবে ভারত আদৌ আম পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে ঢাকা।
এর মধ্যেই বাংলাদেশের গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে নির্মিতব্য ৮১ ফুট উঁচু বিশ্বের বৃহত্তম শ্রীরাম মূর্তির কাজ স্থগিত করার ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠেছে।
চাপে পড়ে স্থগিতে বাধ্য মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রায় ২২ কোটি টাকা বাজেটের এই প্রকল্পে রাম মূর্তির পাশাপাশি কৃষ্ণ ও শিবের বিশালাকার মূর্তি স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু কাজ শুরু হতেই ইসলামপন্থী মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর তীব্র বিরোধিতা ও হুমকির মুখে পড়ে মন্দির কমিটি। পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে মন্দিরের উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত জানিয়েছেন, “সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ও কাউকে আঘাত না দিতেই আপাতত কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে বিশ্বাসী আমরা।”
তসলিমা নাসরিনের নিশানায় ঢাকা এই ঘটনায় সরব হয়েছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি দেশে নতুন নতুন মসজিদ তৈরি হতে পারে, তবে একটি মন্দিরের রামমূর্তি নিয়ে এত আপত্তি কেন?” তিনি একে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় কঠোর বার্তা দিয়েছেন।
উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মন্দির নির্মাণ স্থগিতের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভগবান রামকে নিয়ে গুজব ছড়িয়ে ও মূর্তিতে জুতো নিক্ষেপ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে।





