২১ জুলাই কমিশন রিপোর্ট ঘিরে বিধানসভায় ঝড়! মণীশ গুপ্ত থেকে মমতা, বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

বহু প্রতিক্ষিত ২১ জুলাইয়ের গুলিচালনা কাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রিপোর্ট পেশ করতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতৃত্বকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, শহিদদের আবেগ ও মৃত্যুকে পুঁজি করে তৃণমূল নেতারা ব্যক্তিগত সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন, অথচ নিহত ও আহতদের পরিবারকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে চরম অবহেলা করেছে বিগত সরকার।
কমিশনের রিপোর্টে কী উঠে এল? বিচারপতি সুশান্ত কুমার চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্টের মূল অংশ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান:
তৎকালীন সরকারের আমলে মহাকরণ থেকে এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য বা নথি কমিশনকে দেওয়া হয়নি।
পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর সপক্ষে সঠিক তথ্য কমিশন খুঁজে পায়নি।
মহাকরণ আক্রমণের কোনও বাস্তব আশঙ্কা সেইদিন ছিল না। ধর্মতলা, মেয়ো রোড বা রেড রোডে গুলিচালনা ছিল সম্পূর্ণ উস্কানিবিহীন ও অপ্রয়োজনীয়।
মহাকরণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে কমিশনের রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ নিয়ে মমতা সরকারকে আক্রমণ: কমিশন নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু অভিযোগ, তৎকালীন সরকার সেই সুপারিশ মানেনি, পরিবর্তে নিহতদের মাত্র ২ লক্ষ এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা দিয়ে দায় সেরেছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঘোষণা করেন, “কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ বর্তমান সরকার মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে নিহত ও আহতদের পরিবারকে প্রদান করবে। এছাড়া কেউ নতুন করে এফআইআর করতে চাইলে বর্তমান সরকার তাদের পূর্ণ সহায়তা করবে।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কমিশনকে তথ্য দেওয়া হয়নি। এদিন বিধানসভায় প্রয়াত কংগ্রেস নেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সেইদিনের গুলিচালনার জন্য মণীশ গুপ্তই দায়ী ছিলেন, অথচ তাঁকে পরবর্তীকালে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “২১শে জুলাইয়ের ঘটনাকে ব্যবহার করে অনেকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি, প্রাসাদসম বাড়ি তৈরি করেছেন, চার্টার্ড ফ্লাইটে ঘুরে বেড়িয়েছেন। অথচ শহিদ পরিবারগুলো বঞ্চিত থেকেছে।”
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী আমফান ও কোভিড পর্বে দুর্নীতির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ক্যাগ (CAG) রিপোর্টের সমস্ত তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা জনসমক্ষে আনা হবে।