গড়িয়াহাট রোডের জট কাটাতে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের! ছ’সপ্তাহের মধ্যে পুরনিগম ও পুলিশের কাছে জবাব তলব!

গড়িয়াহাট রোডে বেআইনি গাড়ি পার্কিং, অবৈধ ব্যানার-হোর্ডিং, যত্রতত্র হকার এবং সেতুর নিচের অংশ অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ বা পরিকল্পনা করেছে, তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ কলকাতা পুরনিগম (KMC) এবং পুলিশকে আগামী ছ’সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের শুনানিতে উঠে এল বড় তথ্য
এদিন মামলার শুনানিতে কলকাতা পুরনিগমের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয় যে, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এবং বেআইনি পার্কিং রুখতে প্রশাসন ও পুরনিগম সর্বদা তৎপর রয়েছে। তবে উচ্ছেদ বা সাফাই অভিযান চালাতে গেলেই বিভিন্ন স্তর থেকে নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
পুনর্বাসন ও নিরাপত্তার প্রশ্ন: কর্পোরেশনের আইনজীবী জানান যে, প্রশাসন পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে চায় এবং কারও প্রাণহানি যাতে না ঘটে সেদিকে কড়া নজর রয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন সেতুর বর্তমান ভগ্নদশার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ফ্লাইওভারের নিচের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার খাতিরেই সেখানে থাকা মানুষদের সরিয়ে দেওয়া জরুরি। সাধারণ পথচারীদের হাঁটার মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করতেই এই পদক্ষেপ।
হকারদের স্থায়ী নির্মাণ নিয়ে আপত্তি: আদালতের স্পষ্ট বার্তা, হকাররা ‘স্ট্রিট ভেন্ডার্স অ্যাক্ট’-এর অজুহাত দেখিয়ে ফুটপাতে কোনোভাবেই স্থায়ী নির্মাণ গড়ে তুলতে পারে না।
উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে বিশেষ করে বিভিন্ন পুর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার আর্জি জানিয়ে একটি সংগঠনের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই হাইকোর্ট এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে।
আবেদনকারী ও রাজ্যের বক্তব্য
আবেদনকারীদের আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র ও রতন কাকরানিয়া আদালতে সওয়াল করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী খালি রাস্তা দিয়ে নিরাপদে হাঁটা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু গড়িয়াহাট রোডের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে হাঁটাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, পথচারীদের জন্য রাস্তার দুই-তৃতীয়াংশ খালি রাখতেই হবে এবং বেআইনি দখলদারদের বক্তব্য না শুনেও প্রয়োজনে তাঁদের সরানো যায়।
গণসচেতনতার ওপর বিশেষ জোর প্রধান বিচারপতির
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী মন্তব্য করেন, “শুধুমাত্র গণসচেতনতা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শুধু রিপোর্ট তলব করে বা প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে সব সমাধান হবে না, এর জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে।” এখন দেখার ছ’সপ্তাহ পর প্রশাসন কী পরিকল্পনা জমা দেয় এবং গড়িয়াহাট জট কাটাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।