বর্ষাকালীন অধিবেশনেই আসছে বড় বিল! ট্রাইব্যুনালের শূন্যপদ ও সংস্কার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় ঘোষণা কেন্দ্রের!

দেশের সমস্ত ট্রাইব্যুনালে শূন্যপদ ও কার্যকারিতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া চাপের মুখে অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছে যে, দেশজুড়ে ট্রাইব্যুনালগুলির শূন্যপদ ও সার্বিক সংস্কার সংক্রান্ত একটি নতুন বিলের খসড়া তৈরির কাজ এখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামানি প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে জানান যে, নতুন ট্রাইব্যুনাল সংস্কার বিলটি আসন্ন সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনেই পেশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে দেশজুড়ে ট্রাইব্যুনালগুলির কার্যকারিতা নিয়ে একটি অভিন্ন প্রস্তাব প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছিল এবং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল যে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে কোনোভাবেই নিষ্ক্রিয় হতে দেওয়া যাবে না।
সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের নির্দেশ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ রায় দিয়েছিল যে, পূর্বের রায় লঙ্ঘন করে ট্রাইব্যুনাল সংস্কার আইন, ২০২১-এর অধীনে ট্রাইব্যুনাল সদস্যদের নিয়োগ ও কার্যকালের বিধিগুলি তৈরি করা হয়েছে। আদালত সে সময় জানায়, কেন্দ্র সরকার পূর্বে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক বাতিল ঘোষিত নিয়মগুলোই সামান্য পরিবর্তন করে পুনরায় চালু করেছে। এরপরই আদালত চার মাসের মধ্যে একটি জাতীয় ট্রাইব্যুনাল কমিশন গঠন করার কড়া নির্দেশ দেয়।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিলটি প্রাথমিকভাবে বর্ষাকালীন অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে ছিল না। এর জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, “আমরা এটি আনার সম্পূর্ণ চেষ্টা করছি।” বেঞ্চের অন্য বিচারকদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম. পাঞ্চোলি।
বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতায় কাঠামোগত সুরক্ষা
আদালত পূর্বে তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, এ ধরনের একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা অত্যন্ত জরুরি একটি কাঠামোগত সুরক্ষা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সারা দেশে ট্রাইব্যুনালগুলোর নিয়োগ, প্রশাসন এবং কার্যক্রমে স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও অভিন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। ছোটখাটো সংস্কারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলো দূর করা সম্ভব নয় বলেই বারবার এই কমিশন গঠনের ওপর জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত।