২০ বছর ধরে ভোটে হারছেন! গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারি দেওয়া সেই ছোটে লাল মাহাতো এবারও প্রার্থী, কেন থামছেন না এই অদম্য লড়াকু?

বিহারের রাজনীতিতে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে আসন ভাগাভাগি ও হেভিওয়েট প্রার্থীদের নিয়ে জল্পনা। তবে এই সব কিছুর মাঝেই ফের একবার শিরোনামে উঠে এসেছেন এক অদম্য লড়াকু প্রার্থী— ছোটে লাল মাহাতো। পেশায় তিনি কিষাণগঞ্জে ঘরে ঘরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকারী। কিন্তু গত দুই দশক ধরে প্রতিটি লোকসভা এবং বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি লড়ে চলেছেন।

বয়স বাতিল থেকে শুরু:

ছোটে লাল প্রথম ভোটে লড়ার স্বপ্ন দেখেন ২০০০ সালে, যখন তাঁর বয়স মাত্র ২৩। সেবার বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বয়সের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু সেখানেই তাঁর শুরু। এরপর থেকে তিনি আর পিছন ফিরে তাকাননি। ২০০৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চলেছেন তিনি। প্রয়াত তসলিমুদ্দিন এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সৈয়দ শাহনওয়াজ হোসেনের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদেরও চ্যালেঞ্জ করেছেন এই অদম্য ব্যক্তি।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, “আমি এখনও জিতিনি, তবে কখনও হাল ছাড়িনি। এবারও আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।” সাংসদ বা বিধায়ক হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন নিয়েই তিনি বছরের পর বছর এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

কোথায় পান ভোটের বিপুল খরচ?

ভোটের এই বিপুল খরচ তিনি কীভাবে সামলান? ছোটে লাল জানান, “আমি প্রচুর জনসমর্থন পাই, মানুষই আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সাহায্য করার জন্য অনুদান দেন। আমি মানুষের ঘরে ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দিই। মানুষ আমার মতো নেতা চায়।”

শুধু মানুষের অনুদান নয়, তাঁর এই দীর্ঘকালের লড়াইয়ে অন্যতম শরিক তাঁর স্ত্রীও। মুরগি, ডিম ইত্যাদি বিক্রি করে অর্থ সঞ্চয় করে তিনি স্বামীর ভোটের খরচ জোগাতে সাহায্য করেন। ছোটে লালের জীবনবোধ স্পষ্ট, “যতদিন বেঁচে থাকব, মানুষের জন্য কিছু করে যেতে পারাটুকুই জীবনে আমার অগ্রাধিকার।”

ভোটের নির্ঘণ্ট:

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিহারে মোট ৭.৪৩ কোটি ভোটার রয়েছে। নভেম্বরে দু’দফায় (৬ এবং ১১ নভেম্বর) বিহারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ১৪ নভেম্বর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, বিহার নির্বাচন স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। রাজ্যে মোট ৯০,৭১২টি ভোটকেন্দ্রে হেল্প ডেস্ক এবং ওয়েবকাস্টিং-এর সুবিধা থাকবে।