৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর বাংলায় শুরু হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক সারলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই প্রথম বৈঠকেই রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বড় ঘোষণা করলেন তিনি। জানিয়ে দিলেন, কবে থেকে মহিলারা হাতে পাবেন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ৩ হাজার টাকা।
১ জুন থেকেই শুরু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার
নির্বাচনী প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর বিকল্প হিসেবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করা হবে, যেখানে ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে করা হবে মাসিক ৩,০০০ টাকা। সোমবারের ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে জানা গিয়েছে, আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে এই মেগা প্রকল্প। প্রাথমিক পর্যায়ে ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের সুবিধা উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বন্ধ হচ্ছে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডার!
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে একটি বড় প্রশ্ন ছিল— আগের সরকারের চালু করা প্রকল্পগুলো কি বন্ধ হয়ে যাবে? সোমবার সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ হচ্ছে না। সে ৩০ বছর আগের হোক বা ১০ বছর আগের— সব প্রকল্পই জারি থাকবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যারা পাচ্ছেন, তাদের টাকা হঠাৎ করে বন্ধ করা হবে না।”
স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিতে জোর
প্রকল্প চললেও টাকা বিলির পদ্ধতিতে বড় বদল আনছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন থেকে সমস্ত কাজ হবে ‘পেপারলেস’ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে।
ডিবিটি (DBT): সমস্ত উপভোক্তা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন।
পোর্টাল আপডেট: স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সমস্ত সরকারি পোর্টাল দ্রুত আপডেট করা হবে।
শুদ্ধিকরণ: মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, “কোনও মৃত ব্যক্তি বা অ-ভারতীয় নাগরিক যাতে সরকারি প্রকল্পের টাকা না পান, তা নিশ্চিত করা হবে।”
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের দিনক্ষণ ঘোষণা করে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিলেন যে, প্রতিশ্রুতি পূরণে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে রাজি নয় তাঁর সরকার। এখন অপেক্ষা ১ জুনের, যখন বাংলার মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে বর্ধিত ভাতার প্রথম কিস্তি।





