১৭ তলার বারান্দা থেকে সোজা নিচে পতন! বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু ১১ বছরের শিশুর!

নয়ডার একটি অভিজাত বহুতল আবাসিক সোসাইটিতে ফের এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে গেল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিচে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় অসাবধানতাবশত ভারসাম্য হারিয়ে ১৭ তলা ছাদ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে ১১ বছর বয়সী এক বালকের করুণ মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা শোকে সম্পূর্ণ মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন এবং পুরো হাউজিং সোসাইটি গভীরভাবে শোকাহত। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো দুর্ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডার সেক্টর ৭৮-এ অবস্থিত বিখ্যাত ‘হাইড পার্ক সোসাইটি’-র চত্বরে। নিহত শিশুটির বাবা রোহিত সিংগলা সপরিবারে ওই সোসাইটিরই একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন এবং তিনি একটি স্বনামধন্য বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। বুধবার সন্ধ্যায় রোহিত সিংগলার ১১ বছর বয়সী পুত্র সন্তান আরভ তাদের নিজ ফ্ল্যাটের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় আবাসনের পার্কের নিচে তার বেশ কিছু সমবয়সী বন্ধু খেলাধুলা করছিল। তাদের খেলা দেখতে দেখতে ওপরের ১৭ তলার বারান্দা থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলতে শুরু করে আরভ। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে যায় মারাত্মক বিপত্তি। অসাবধানতাবশত পা ফসকে বা ভারসাম্য হারিয়ে সোজা ১৭ তলা থেকে নিচে পড়ে যায় সে।

আকস্মিক এই পতনের শব্দে সোসাইটির আশেপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন এবং মুহূর্তের মধ্যে তীব্র চিৎকার শুরু হয়ে যায়। একজন তৎপর নিরাপত্তা রক্ষীর সাহায্যে গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত স্থানীয় একটি নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর পরিবার ও কাজের সূত্রে জানা গিয়েছে, রোহিত সিংগলা হাইড পার্ক সোসাইটির ‘আর’ (R) টাওয়ারের ১৭০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার স্ত্রী, কন্যা ও পুত্র আরভকে নিয়ে বসবাস করতেন। রোহিত ও তাঁর স্ত্রী উভয়েই একটি নামী আইটি সংস্থায় উচ্চপদে কর্মরত রয়েছেন। ঘটনার দিন রোহিত ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করছিলেন এবং ঘটনার সময় সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ছ’টার দিকে তিনি তাঁর ছেলের সঙ্গেই পার্কমুখী বারান্দায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে অফিস থেকে একটি জরুরি ফোন আসায় রোহিত ঘরের ভেতরে চলে যান। ঘরের ভেতরে ফোন কলে ব্যস্ত থাকার এই সংক্ষিপ্ত মুহূর্তটুকুর মধ্যেই আরভ বারান্দার গ্রিলের কাছে গিয়ে নিচে পার্কে খেলা করা বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে শুরু করে। আর ঠিক সেই সুযোগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক বিপত্তি। ভারসাম্য সম্পূর্ণ হারিয়ে সে সোজা নিচে আছড়ে পড়ে, যা কেড়ে নেয় একটি তাজা প্রাণ। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং এই আকস্মিক দুর্ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত।