১৪টি জেলায় জারি ‘হাই অ্যালার্ট’! জলের নিচে ৫৬৩টি গ্রাম, অসমের এই ভয়াবহ রূপ দেখে শিউরে উঠবেন

ভারতের উত্তর-পূর্বের সীমান্তবর্তী রাজ্য অসমে বন্যা পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তেই আরও বেশি আশঙ্কাজনক ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। ‘ডিজাস্টার রিপোর্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (DRIMS)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের জেরে রাজ্যে আরও ৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর ফলে চলতি বর্ষা মরসুমে রাজ্যজুড়ে বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ জনে। রাজ্যের নদীগুলিতে জলের স্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে ১৪টি জেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে পাঁচটি সরাসরি প্লাবিত গ্রামীণ অঞ্চলের বন্যার সাথে যুক্ত। এর মধ্যে বিশ্বনাথ ও শিবসাগর জেলায় দুজন করে এবং গোলাঘাট জেলায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মরিগাঁও জেলার মায়ং রাজস্ব সার্কেলে শহরাঞ্চলের জমা জলে ডুবে এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে ওদালগুড়ি জেলা থেকে আরও এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। নুমালীগড়ের ধানসিঁড়ি (দক্ষিণ) নদী সহ একাধিক প্রধান নদীর জলস্তর এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাজ্যের গোলাঘাট, লখিমপুর, চরাইদেও, শিবসাগর, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, কামরূপ, জোরহাট, শোণিতপুর, তিনসুকিয়া, নগাঁও, দরাং, কার্বি আংলং এবং ওদালগুড়ি—এই ১৪টি জেলায় চলছে অত্যন্ত কড়া নজরদারি।
এই সর্বগ্রাসী বন্যার ধাক্কায় ৫৬৩টি গ্রামের ১ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। গোটা রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা শিবসাগর জেলার, যেখানে প্রায় ৫৭ হাজারেরও বেশি মানুষ বর্তমানে জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির নিরিখে এর পরেই রয়েছে গোলাঘাট ও জোরহাট জেলা। বন্যার জলের তোড়ে পরিকাঠামোগত যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যজুড়ে অন্তত ৭টি বড় বাঁধ ও নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ার খবর মিলেছে। বিশ্বনাথের ব্রহ্মজান এবং দরাংয়ের মঙ্গালদৈতে পাড় ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তা ছাড়া চরাইদেওর চোলা পথারে একটি স্টিলের সেতু এবং ওদালগুড়ির টাংলায় একটি পায়ে হাঁটার পদসেতু ভেঙে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
কৃষিক্ষেত্র ও পশুপালনের ক্ষেত্রেও নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। রাজ্যের প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর চাষের জমি সম্পূর্ণ জলের নিচে চলে গিয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি গবাদি পশু বন্যাকবলিত হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে আট হাজার প্রাণী জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি রাজধানী গুয়াহাটি সহ একাধিক শহরের নিচু এলাকাগুলিতে কৃত্রিম বন্যায় জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) ও জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (DDRF) দিনরাত উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ৪৫টি ত্রাণ শিবিরে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দিনে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।