১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুন! উত্তাল বারুইপুরে নামল র্যাফ, তদন্তে বিশেষ সিট

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে বারুইপুর জেলা পুলিশ ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। ঘটনার তদন্তভার নিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্ত। প্রাথমিক তদন্তে দুইজনকে গ্রেফতার করার পর, সোমবার ভোরে তল্লাশি চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তিনটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রথম মামলাটি নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও খুনের অভিযোগে, আর অন্য দুটি মামলা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশের ওপর হামলা এবং গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের জন্য দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ করে অশান্তি ছড়ানোয় জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোটা এলাকায় বিএনএস ১৬৩ ধারা (পূর্বের ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। কুলপি রোডে বিক্ষোভ, রেল অবরোধ এবং পুলিশের গাড়ির ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে বারুইপুরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন। সোমবার এলাকা ছিল শুনশান এবং দোকানপাট বন্ধ।
ঘটনার জল প্রশাসনিক শীর্ষস্তর পর্যন্ত গড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দেন। মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছে। শনিবার নিখোঁজ হওয়ার পর রবিবার পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। উত্তাল জনতা এক অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ ও সিট এখন কতটা দ্রুত চার্জশিট পেশ করতে পারে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।