“১২৫ ফুটের মূর্তি, স্কুল-সিলেবাসে শ্যামাপ্রসাদের জীবনকথা”-বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

রাজ্যের ক্ষমতায় এসেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বর্তমান সরকার। সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজ্যের স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

পাঠ্যপুস্তকে কী কী থাকবে? মিত্র ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম যেন এই মহামানবের আত্মত্যাগ ও অবদানের কথা জানতে পারে, তার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। পাঠ্যপুস্তকে মূলত যে বিষয়গুলি গুরুত্ব পাবে তা হলো:

  • পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টিতে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা ও অখণ্ড ভারতের ভাবনা।

  • স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দেশের শিল্পায়নে তাঁর অবদান।

  • কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর অনন্য ভূমিকা।

  • আইনসভায় দেওয়া তাঁর কালজয়ী ভাষণসমূহ।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশকে পরিকল্পিতভাবে এই মহামানবের অবদানকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছিল। তিনি বলেন, “বর্তমান রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের বিচারধারার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। এই মহান ব্যক্তিত্বদের আত্মত্যাগ বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।” পাশাপাশি, শ্যামাপ্রসাদের ছাত্রজীবনের স্মৃতিবিজড়িত মিত্র ইনস্টিটিউশনের উন্নয়নের জন্য তিনি নিজের বিধায়ক তহবিল থেকে ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান ঘোষণা করেছেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচি: শ্যামাপ্রসাদের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ রাজ্যজুড়ে ছিল সাজসাজ রব। রেড রোডে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদানের পাশাপাশি মুরলীধর সেন লেনের দলীয় কার্যালয়েও বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, নিউটাউনের ইকোপার্ক সংলগ্ন এলাকায় শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তির ‘ভূমিপূজন’ করার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের।

রাজনৈতিক মহলের মতে, শ্যামাপ্রসাদের জন্মজয়ন্তীতে এমন বড় ধরনের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের মাধ্যমে বঙ্গ বিজেপির সরকার রাজ্যের বৌদ্ধিক ও শিক্ষাগত পরিসরে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে রাখল।