“১০ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, যাদবপুরে যাচ্ছেন CM শুভেন্দু

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি চলা উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই সেখানে এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব ঠিক থাকলে আগামী ২৮ অগাস্ট ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার একটি সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন তিনি। সম্প্রতি কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় যাদবপুরের পড়ুয়াদের একাংশকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিতরে দেশবিরোধী শক্তি সক্রিয় রয়েছে। সেখানে জাতীয় পতাকা যথাযথভাবে উত্তোলন করা হয় না এবং ‘বন্দে মাতরম’ বলতেও বাধা দেওয়া হয় বলে দাবি করেছিলেন তিনি। ক্যাম্পাসের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদী পরিবেশ প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য এই সফর ঘিরে অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিক্ষোভের ঘটনাও ফের আলোচনায় উঠে আসছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে অতীতে যখনই সরকারের কোনো মন্ত্রী বা হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছেন, তখনই তাঁদের বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। যেমন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল এসএফআই। তারও আগে ২০১৯ সালে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। এছাড়া ২০২৩ সালের অগাস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলে এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল।
বারবার ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক সংঘাত এবং নানা বিতর্কে উত্তপ্ত থাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে এবার মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই বিশাল আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এই হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।