“১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্যলগ্ন!”-জেনেনিন বিশেষ তিথির সঠিক সময় ও সময়সূচি

দুর্নীতি, তোলাবাজি ও কাটমানির বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলে এসেছে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ—সকলেই লাগাতার কড়া বার্তা দিয়ে আসছেন। গত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের জমানার দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েই ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরেই দলের একাংশের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগে অস্বস্তি বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে।

দলের অন্দরেই উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ

ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলেও, বর্তমানে খোদ বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে প্রোমোটার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠছে। এমনকী অনেক ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটবাজির মতো পুরনো রোগও মাথাচাড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলের অন্দরের কর্মীরাই এই বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী পোস্ট করে দলের বিড়ম্বনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন তাঁরা।

শীর্ষ নেতৃত্বের কঠোর বার্তা ও হুঁশিয়ারি

দলের অন্দরের এই পচন ও তোলাবাজির খবর পৌঁছতেই নড়েচড়ে বসেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। লাগাতার কড়া বার্তা দিতে শুরু করেছেন বড় নেতারা।

  • শমীক ভট্টাচার্যের হুঁশিয়ারি: রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোর হাতে প্রশাসনিক স্তরে ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং দলীয় স্তরেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “এই দিন কিন্তু অন্য দিকেও ঘুরতে পারে। এটা প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে।” দলের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মীদের শুধরে নেওয়ার জন্য মাত্র ১৫ দিন সময় দিয়েছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে পথ না বদলালে যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

  • দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য: মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে কোনো রাখঢাক না করে বলেন, “আমাদের বহু নেতা তোলাবাজির মধুতে আসক্ত, তোলাবাজির সংস্কৃতি এত তাড়াতাড়ি উঠে যাবে, এটা ভাবার কোনও কারণ নেই… পুলিশকে বলা হয়েছে অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি জানান, দল সব দিকে নজর রাখছে এবং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

  • অগ্নিমিত্রা পালের বার্তা: মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও কড়া ভাষায় জানিয়েছেন যে, দলের নামে বা দলের পরিচয়ে তোলাবাজি করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না, সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এই ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ দল কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত

রাজনৈতিক মহলের মতে, সাধারণ মানুষ যে কাটমানি, দুর্নীতি বা তোলাবাজি একেবারেই পছন্দ করে না, তা খুব ভালোভাবেই জানে বিজেপি নেতৃত্ব। সেই কারণেই দল ক্ষমতায় আসার পরেই এই ধরনের প্রবণতাকে অঙ্কুরে বিনাশ করতে চাইছে। এই কড়া বার্তা ও হুঁশিয়ারি শেষ পর্যন্ত দলের অন্দরের এই ‘রোগ’ সারাতে কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।