নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মুম্বই! সিজেপি-র মেগা প্রজেক্ট রুখতে শিবাজি পার্কে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

মুম্বইয়ের ছত্রপতী শিবাজি মহারাজ পার্কের গেট নম্বর ৬-এর সামনে ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ‘স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর নিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেয় CJP। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির মুখে পার্ক চত্বরে বিশাল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন বিকেলে এই বিক্ষোভে অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও সুরকার বিশাল দাদলানি সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের যোগদানের কথা ছিল। CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই আন্দোলন শুধু মুম্বইতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, গোয়া সহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে অবশেষে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে এক বিশাল জন-সমাবেশের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক जोशी এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। সিজেপি-র অভিযোগ, ২০২৪ সালের পর থেকে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম রহস্যজনকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ (NDA) ও ইন্ডিয়া জোটের ভোটের ব্যবধানকে প্রভাবিত করার একটি গভীর চক্রান্ত। যদিও নির্বাচন কমিশন সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে যে এসআইআর সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই কমিশনের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার একজন গদ্দার এবং তাঁকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি, মহারাষ্ট্রের শাসক দলের রাজনৈতিক সভার উদাহরণ টেনে শিবাজি পার্কে তাঁদের বিক্ষোভ প্রদর্শনে বাধা দেওয়ার পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন দীপকে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে তাঁকে জেলে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলে এই প্রতিবাদকে ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া মিলছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে কটাক্ষ করে বলেছেন যে CJP-র নাম বদলে ‘ইস্তফা জনতা পার্টি’ রাখা উচিত, আবার অন্যদিকে আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল দাবি করেছেন যে এই আন্দোলন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগের দাবিতে হওয়া উচিত। সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশন বনাম বিরোধীদের এই তরজায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি।