ওমানি সহ-পাইলটের ভয়ঙ্কর হামলা রুখে মহাবিপদ থেকে রক্ষা! প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে ভিডিও কলে কেঁদে ফেললেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন

আবুধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে শুক্রবার এক আবেগঘন ভিডিও কলে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ (FZ1073)-এর মারাত্মক দুর্ঘটনা এড়িয়ে ১৮০ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচানোর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইটের সহ-পাইলট (যিনি একজন ওমানি নাগরিক) হঠাৎই ছুরি বা কুড়ালের মতো ধারালো অস্ত্র নিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিতের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালান এবং তাঁকে গুরুতরভাবে রক্তাক্ত করেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দেন এই ভারতীয় পাইলট।

ভিডিও কলের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদীকে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত জানান, দীর্ঘ ১৭ বছরের পাইলট জীবনের অভিজ্ঞতা এবং চোখ বন্ধ অবস্থাতেই বিমানের প্রতিটি গতিপ্রকৃতি তিনি বুঝতে পারছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে পরিস্থিতি চূড়ান্ত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং সেটিই তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত হতে পারে। গুরুতর জখম হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ার পরও তিনি নিজের জীবনের জন্য লড়াই বন্ধ করেননি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে সেই মুহূর্তে যদি তিনি মাথা তুলে না দাঁড়ান, তবে বিমানের একটি প্রাণও বাঁচবে না। এই চরম সঙ্কটের মুহূর্তে মনের জোর ধরে রাখতে তিনি ক্রমাগত হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন। এরপর রক্তাক্ত অবস্থাতেই কোনোমতে ককপিটের দরজা খুলে ফেলেন, যার ফলে কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা যৌথভাবে আক্রমণকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে বিমানটিকে সফলভাবে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলার সময় স্মিত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং তাঁর চোখ দিয়ে জল গড়ায়। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে অত্যন্ত স্নেহের সুরে উৎসাহিত করে বলেন, “আমার সামনে যদি তুমি আবেগপ্রবণ না হও, তাহলে আর কোথায় হবে?” প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে গোটা দেশ তাঁর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছে এবং তাঁর সাহসিকতার জন্য ‘মহামৃত্যুঞ্জয় ধ্বনি’ উচ্চারিত হচ্ছে। মোদী প্রশংসা করে বলেন, “আপনার সাহস, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত এবং সংযম বহু প্রাণ রক্ষা করেছে। দেশ আজ গর্বের সঙ্গে বলতে পারে যে ভারতীয়রা অন্যের জীবন কাড়তে নয়, বরং নিজের জীবন বাজি রেখে অন্যের প্রাণ বাঁচাতে প্রস্তুত।”