প্রাইভেট লজে হানা দিল ‘নকল পুলিশ’! যুবতীকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ, নেপথ্যে যা ঘটল?

বিবাহিত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং পরকীয়ার জেরে এক লোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ ভারত। স্বামীর পরকীয়ার প্রতিশোধ নিতে স্ত্রীর এমন এক জঘন্য রূপ সামনে এল, যা শুনে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষও। স্বামীর ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে ভাড়াটে গুন্ডা লেলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, মাঝরাস্তায় স্বামীর হাত-পা ভেঙে তাকে হাসপাতালের সামনে ফেলে দিয়ে, তাঁর সঙ্গীনীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে। গত মাসে তামিলনাড়ু ও কেরালার সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী এক ব্যক্তি তাঁর বিবাহিত নারী বন্ধুকে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন প্রতিবেশী রাজ্য কেরালায়। কেরালার কেএসআরটিসি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি প্রাইভেট লজে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে তাঁরা অবস্থান করছিলেন। তাঁরা লজে ওঠার ঠিক কিছুক্ষণ পরই পাঁচজন ব্যক্তি পুলিশের ছদ্মবেশে জোরপূর্বক সেই রুমে প্রবেশ করে।
অভিযুক্তরা ঘরে ঢুকে ওই পুরুষ ও নারী—দুজনকেই তাঁদের পরনের কাপড় দিয়ে হাত, পা এবং মুখ শক্ত করে বেঁধে ফেলে। এরপর তাঁদের জোর করে একটি গাড়িতে তুলে তামিলনাড়ুর দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো যাত্রাপথেই ওই পুরুষসঙ্গীকে বেধড়ক মারধর করা হয়, যার জেরে তাঁর হাত ও পা ভেঙে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুরের একটি হাসপাতালের সামনে ফেলে পালায় অপহরণকারীরা। এরপর ওই যুবতীকে অন্য একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
তদন্তে ফাঁস স্ত্রীর মাস্টারপ্ল্যান
ঘটনার পর নির্যাতিতা নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তামিলনাড়ু পুলিশ একটি মামলা রুজু করে। যেহেতু অপরাধের প্রাথমিক সূচনা কেরালায় হয়েছিল, তাই নথিপত্র কেরালার ত্রিশূর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের সাইবার সেল ও গোয়েন্দা দল তদন্তে নেমে এক অবিশ্বাস্য তথ্য হাতে পায়। তদন্তে স্পষ্ট হয়ে যায়, ভুক্তভোগী নারী যে ব্যক্তির সঙ্গে কেরালায় গিয়েছিলেন, সেই ব্যক্তির স্ত্রীই এই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। স্বামীর ওপর নজর রাখতে তাঁর ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করতেন স্ত্রী। সেই রিয়েল-টাইম লোকেশন ও সমস্ত তথ্য তিনি তুলে দিয়েছিলেন সেই পাঁচ অপরাধীর হাতে। টাকার বিনিময়ে সুপারি দিয়ে এই অপহরণ ও পাশবিক কাণ্ড ঘটানো হয়।
অবশেষে গ্রেফতার মূল ষড়যন্ত্রকারী স্ত্রী
তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ভাড়াটে গুন্ডা ও অপরাধীদের একে একে পাকড়াও করে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই নৃশংস ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী তথা অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যে আর কারা কারা জড়িত এবং এর পেছনে গভীর কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।