আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে কোমর বেঁধে নামল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল AIMIM (মিম)। শুক্রবার বাংলার জন্য প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল তারা। হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-এর সঙ্গে জোট বেঁধে এবার তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষকেই কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ওয়েইসি।
মিমের নজরে কোন কোন কেন্দ্র?
প্রথম তালিকায় মোট ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের নাম ঘোষণা করেছে মিম। উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলি হলো:
মালদহ ও মুর্শিদাবাদ: সুজাপুর, মোথাবাড়ি, রঘুনাথগঞ্জ, কান্দি, সূতি।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ: আসানসোল উত্তর, নলহাটি, মুরারই, বারাসত, হাবড়া, বসিরহাট দক্ষিণ এবং করণদিঘি।
“মমতা-মোদী ভাই-বোন”: তীব্র আক্রমণ ওয়েইসির
মুর্শিদাবাদের নওদায় হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে যৌথ জনসভা থেকে সরব হন ওয়েইসি। কংগ্রেস, বাম এবং তৃণমূল—তিনটি দলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা ১৫ বছর তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন, মুসলিমদের কী লাভ হয়েছে? মমতা আর মোদী ভাই-বোনের মতো, এঁদের কারোর ওপর ভরসা করা যায় না।” তাঁর দাবি, মুসলিমদের উন্নয়নের নামে শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
হুমায়ুনের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ইস্তাহার
জোটসঙ্গী হুমায়ুন কবীরের দল ১৮২টি আসনে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের প্রকাশিত ইস্তাহারে একগুচ্ছ জনমোহিনী প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ি:
স্বাস্থ্য ও ভাতা: ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথী বিমা, কন্যা সন্তান জন্মালে এককালীন ২০ হাজার টাকা এবং ‘মাতৃ সম্মান’ প্রকল্পে মাসে ৩৫০০ টাকা ভাতা।
শিক্ষা ও উন্নয়ন: সংখ্যালঘু ও দলিত শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তি এবং ১০০টি নতুন সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি।
পরিকাঠামো: মুর্শিদাবাদে বিমানবন্দর তৈরি এবং গঙ্গার ওপর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি।
‘প্রতিশ্রুতি নয়, দায়িত্ব নিচ্ছি’
হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের লড়াই বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের জন্য। তাঁদের নির্বাচনী স্লোগান— ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না, আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলিতে মিম ও এজেউপি জোটের এই সক্রিয়তা শাসক দল তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে পারে। ওয়েইসির এই ‘এন্ট্রি’ শেষ পর্যন্ত কার ভোট কাটবে, তা নিয়েই এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।





