১০ রাউন্ডে ফয়সালা না কি বড় কোনো চমক? ভোটগণনার আগে স্ট্রংরুমে ত্রিস্তরীয় পাহারা

অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। আগামীকাল সোমবার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে। কে হাসবে শেষ হাসি, আর কাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়বে— তা জানা যাবে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে। তবে গণনার দিন যাতে এক ফোঁটা রক্তপাত বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য এবার কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজ্য কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যজুড়ে মোট ২৯৩টি কেন্দ্রে ভোটগণনা হবে। গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে তৈরি করা হয়েছে ৪৫৯টি কাউন্টিং হল। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি কেন্দ্রে থাকছে ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা বলয়। রাজ্য পুলিশ এবং রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF)। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা— নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কেউ ভেতরে ঢুকলে তার দায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও নিতে হবে। নিরাপত্তার সামান্যতম বিচ্যুতিও বরদাস্ত করা হবে না।

এজেন্টদের জন্য কড়া নিয়ম, জারি ১৬৩ ধারা এবারের গণনায় কোনো ফাঁকফোকর রাখতে নারাজ প্রশাসন। নিয়ম অনুযায়ী, একটি সম্পূর্ণ রাউন্ডের গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি করা যাবে না। পাশাপাশি, ভোটগণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরোতে পারবেন না। একান্ত প্রয়োজনে বেরোতে হলে রিটার্নিং অফিসারের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্যজুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা আইনের ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে, ফলে যেকোনো ধরণের জমায়েত নিষিদ্ধ।

বিজয় মিছিলে ‘না’, নজর বিশেষ কেন্দ্রগুলোতে ফল প্রকাশের পর সাধারণত বিজয় মিছিলের হিড়িক পড়ে, কিন্তু এবার তাতে লাগাম টেনেছে কমিশন। সাফ জানানো হয়েছে, সোমবার কোনো বিজয় মিছিল করা যাবে না। উৎসব বা বিজয় উদ্‌যাপন করতে হলে আগেভাগেই পুলিশের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।

এদিকে মেটিয়াবুরুজ, সপ্তগ্রাম এবং বীজপুরের মতো কেন্দ্রগুলোর ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এখানে মাত্র ১০ দফায় গণনা শেষ করার বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৫৩৯ জন অবজ়ারভারের নজরদারিতে প্রতিটি পদক্ষেপের ভিডিওগ্রাফি করা হবে।

তদন্তের মুখে আধিকারিকরা ভোট পরবর্তী উত্তেজনার মধ্যেই ফলতা ও মগরাহাট কেন্দ্রের অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন। ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের পর এবার তিন জন প্রিসাইডিং অফিসার এবং এক জন বুথ লেভেল অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট রুখতে বিদ্যুৎ দপ্তরের সাথে বৈঠক সেরেছে প্রশাসন, যাতে গণনার সময় কোনোভাবেই লোডশেডিং না হয়। সব মিলিয়ে এক টানটান উত্তেজনার আবহে কালকের দিনটির দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। কমিশনের আবেদন— গণতন্ত্রের এই উৎসবে সবাই যেন শান্তি বজায় রাখেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy