বিধাননগরে সরকারি কাজে ‘কাটমানি’ চলবে না! ৬০ জন ঠিকাদারকে ডেকে সোজা কড়া হুঁশিয়ারি বিজেপি বিধায়কের

বিধাননগর পৌরনিগম (Bidhannagar Municipality) এলাকার সমস্ত উন্নয়নমূলক ও সরকারি কাজে কোনো রকম ‘কাটমানি’ বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই দুর্নীতি পুরোপুরি দমনের লক্ষ্য নিয়ে এবার সরাসরি কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন রাজারহাট গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা বিশিষ্ট আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। এলাকার উন্নয়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পৌরসভার প্রায় ৬০ জন নিবন্ধিত ঠিকাদার বা কনট্রাক্টরকে এক ছাদের নিচে ডেকে পাঠান তিনি। শুধু তাই নয়, পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সামনে বসিয়ে সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে ঠিকাদারদের চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি বাগুইআটি থানা এলাকার একটি অভিজাত অনুষ্ঠানে কলকাতার বিধাননগর পুরনিগম এলাকার প্রায় ৬০ জন ঠিকাদারকে একত্রিত করা হয়। সেখানে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয় যে, রাস্তাঘাট নির্মাণ, পানীয় জল সরবরাহ কিংবা পথবাতি বসানোর মতো পৌরসভার কোনো কাজেই আর কোনো রকম কাটমানি বা অবৈধ কমিশন কাউকে দেওয়া বা নেওয়া চলবে না। এর আগে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে এই পৌর এলাকায় লাগাতার কাটমানি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি জনমানসে এমন ধারণাও তৈরি হয়েছিল যে, এই পৌরসভায় কোনো রকম আর্থিক লেনদেন বা কাটমানি ছাড়া একটি পাতাও নড়ে না। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর এবার সেই পুরনো সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। সরকারের উচ্চস্তর থেকে আগেই তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল, আর এবার সেই নির্দেশকে আরও জোরালোভাবে বাস্তবায়িত করতে উদ্যোগী হয়েছেন বিধায়ক।
এদিন প্রকাশ্যে ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, “এই প্রতিটি টাকা আমারও নয়, আপনাদেরও নয়; এটি দেশের প্রতিটি সাধারণ করদাতার কষ্টার্জিত টাকা। যিনি সরাসরি আয়কর দেন, তাঁরও এই তহবিলে অবদান রয়েছে; এমনকি একজন গরিব মানুষ যখন বাজার থেকে এক প্যাকেট আমূল দুধ কেনেন, তার মধ্যেও করের টাকা থাকে। সাধারণ মানুষের এই পবিত্র টাকা দিয়েই মানুষের উন্নয়নের কাজ করা হবে। সেই টাকা নিয়ে কেউ মাঝপথে লোপাট করে চলে যাবে, সেই দিন এবার চিরকালের মতো শেষ হয়ে গেছে। ঠিক যেমন আপনারা আপনাদের কাজের সঠিক পেমেন্ট বুঝে নেবেন, তেমনই আমরাও রাস্তাঘাট তৈরির গুণগত মান বা কোয়ালিটি কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেব। কাজের ক্ষেত্রে সামান্যতম গোলমাল বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না, সেক্ষেত্রে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিনের এই বিশেষ বৈঠকে শুধু বিধায়ক একা নন, অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও। বাগুইআটি থানার আইসি (IC) সম্পূর্ণ দাবাং মেজাজে ঠিকাদারদের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে সাফ জানিয়ে দেন যে, সরকারি কাজে সামান্যতম কাটমানি বা তোলাবাজি ধরা পড়লেই সরাসরি জেলযাত্রা নিশ্চিত। দুর্নীতি রোধে পুলিশ ও প্রশাসনের এই যৌথ এবং কঠোর পদক্ষেপের ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোরগোল পড়ে গেছে।