১০ জন অ্যাসিড আক্রান্ত নারীর হাতেই দুর্গাপুজোর উদ্বোধন! সিদ্দা গ্যালাক্সিয়ার অনন্য উদ্যোগে স্তব্ধ তিলোত্তমা

হার না মানা জেদ, অদম্য লড়াই আর সাহসিকতার মূর্ত প্রতীক তাঁরা। সমাজের সমস্ত প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো সেই দশজন অ্যাসিড আক্রান্ত নারীই এবার পুজোর মূল আকর্ষণ। কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় আবাসিক প্রজেক্ট ‘সিদ্দা গ্যালাক্সিয়া ফেজ-১’ (Siddha Galaxia Phase-I)-এর উদ্যোগে এই দশ ‘দুর্গা’র হাতেই সম্পন্ন হতে চলেছে এ বছরের দুর্গাপুজোর শুভ উদ্বোধন। কেবল উদ্বোধনের এই অনন্য ভাবনাই নয়, পুজোর ক’দিন জুড়ে এই আবাসনে থাকছে জমজমাট সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজনের এক বিশাল পসরা।
উদ্যোক্তাদের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার মহা পঞ্চমীর পবিত্র লগ্নে এই বিশেষ মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমেই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। সমাজে ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য প্রতীক হিসেবে ওই দশ জন বিশিষ্ট অ্যাসিড আক্রান্ত নারীকে বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হবে। এই মহতী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী দর্শনা বণিক।
পঞ্চমীর সূচনার পর থেকেই প্রতিদিনের সাংস্কৃতিক আয়োজনে জমে উঠবে সিদ্দা গ্যালাক্সিয়া চত্বর। মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় সাড়ে ছ’টায় মঞ্চ মাতাতে আসছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুমন দাস এবং সাড়ে সাতটায় সুরের জাদুতে আসর মাতাবেন খ্যাতনামা লোকসঙ্গীত শিল্পী প্রিয়ঙ্কনা শিলাদিত্য। মহাসপ্তমী ও সংলগ্ন দিনগুলিতে শাস্ত্রীয় পূজা আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশেষ মঞ্চ নাটক। এছাড়া মহাসমাবেশের আমেজে মহা অষ্টমীর সন্ধ্যায় আধুনিক ও সুরের ঝঙ্কার তুলবেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ঈশান মিত্র। মহানবমীর রাতে থাকছে ঐতিহ্যবাহী ‘নবরাত্রি ডান্ডিয়া’র জমজমাট আয়োজন, যেখানে বর্ণিল পোশাকে সনাতন আনন্দ ও নৃত্যের ছন্দে মেতে উঠবেন আবাসনের বাসিন্দারা। সবশেষে বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা ও দেবী বরণের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ধুনুচি নাচ, ঢাকের বোল এবং বিশেষ আকর্ষন হিসেবে থাকছে ‘নাসিক ঢোল’-এর দুর্দান্ত পরিবেশনা।
এই বর্ণাঢ্য উৎসবকে সুচারু ও সফলভাবে পরিচালনা করতে একটি দক্ষ পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন অর্পণ সাহা। এছাড়া যুগ্ম সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন সৌম্যদীপ স্যান্যাল ও কুণাল গোস্বামী এবং যুগ্ম কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন লাবণী পণ্ডিত দে ও শুভজিৎ বাগ। উদ্যোক্তাদের এই অভূতপূর্ব ও মানবিক উদ্যোগ ইতিমধ্যেই শহরবাসীর মনে গভীর রেখাপাত করেছে।