ঋতব্রত শিবিরে বড় ধাক্কা! মহিলা সভানেত্রীর পদ ছাড়লেন সাবিনা ইয়াসমিন, চিঠির কোন কথায় জল্পনা তুঙ্গে?

ঋতব্রত শিবিরে ফের বড় ধরনের ভাঙন ধরাল রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। ব্যক্তিগত শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের মহিলা সংগঠনের সভানেত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিলেন মালদহের প্রভাবশালী নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। তবে শুধু পদত্যাগই নয়, তাঁর পদত্যাগপত্রে লেখা একটি বিশেষ বিষয় ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবিনা ইয়াসমিন তাঁর পদত্যাগপত্রে পরিষ্কার উল্লেখ করেছেন যে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ঋতব্রত শিবিরের মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পদ ছাড়লেও তিনি দলত্যাগ করছেন না। কিন্তু এই চিঠির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সেখানে তিনি বিপ্লব মিত্রকে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ঋতব্রত শিবিরের নেতৃত্ব প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল যে তারা মূলত মূল দলেই রয়েছে। এবার মালদহ জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীর চিঠিতেও সেই একই সুর প্রতিধ্বনিত হলো, কারণ তাঁর পুরো পদত্যাগপত্রে কোথাও ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ বা গণতান্ত্রিক তৃণমূলের কোনো উল্লেখ ছিল না।

রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাবিনা ইয়াসমিনের এই পদত্যাগ ও চিঠির ভাষা রাজ্য রাজনীতির অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মালদহ জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে। একদিকে যখন ঋতব্রত শিবির তাদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই সংগঠনের অন্দরে এই ধরনের পদত্যাগ ও মূল দলের প্রতি আনুগত্যের প্রকাশ শিবিরের অভ্যন্তরে বড়সড় ফাটলের কথাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার পর ঋতব্রত শিবিরের পরবর্তী কৌশল কী হয় এবং মালদহের রাজনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কতটা গভীর হয়।