১০৫ বছর বয়সে এসে জেলমুক্তি! ১৯৮৮ সালের খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজা মকুব সুপ্রিম কোর্টের

বয়স যে কেবলই একটা সংখ্যা, তা আবারও প্রমাণ করলেন মালদার মানিকচকের বাসিন্দা রসিক চন্দ্র মণ্ডল। ১৯৮৮ সালের একটি খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে কাটিয়ে অবশেষে ১০৫ বছর বয়সে পাকাপাকিভাবে মুক্তি পেলেন তিনি। বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা এবং বার্ধক্যের কথা বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বাকি সাজা মকুব করে দিয়েছে।
১৯৮৮ সালে সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি পারিবারিক বিবাদের জেরে নিজের ভাই সুরেশ মণ্ডলকে খুনের অভিযোগ ওঠে রসিক মণ্ডলের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৪ সালে আদালতের বিচারে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। সেই সময় তাঁর বয়স ছিল ৭৪ বছর। আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ সময় জেল খাটার পর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে।
২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টে মুক্তির আবেদন জানিয়েও সুফল পাননি তিনি। এরপর মামলা গড়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। ২০২০ সালে ৯৯ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে ফের মুক্তির আবেদন জানান। ২০২১ সালের মে মাসে সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের কাছে জবাব তলব করে সুপ্রিম কোর্ট। আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে শীর্ষ আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন বা প্যারোলে মুক্তি দেয়। তখন থেকেই তিনি জেলের বাইরে ছিলেন।
গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে। আদালত জানায়, রসিকচন্দ্রের বর্তমান বয়স এবং শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বাকি মেয়াদ সম্পূর্ণ মকুব করা হলো। এর ফলে প্রায় চার দশক পর তাঁর আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল এবং তিনি সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হলেন। জীবনের শেষ দিনগুলো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটাতেই পারবেন শতায়ু এই বৃদ্ধ। মুক্তির পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে রসিক চন্দ্র মণ্ডল জানান, এত বছর পর মুক্ত বাতাসে এসে এবং পরিবারের কাছে ফিরতে পেরে তাঁর খুব ভালো লাগছে।