সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কী কী শাস্তি? গুন্ডা দমনে কড়া আইন কার্যকর রাজ্যে!

রাজ্যে অপরাধ দমনে আরও এক ধাপ কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপে কড়া বার্তা দিয়ে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো গুন্ডাদমন আইনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নবান্নে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে বিস্তারিত আপডেট দিয়েছেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকে বিন্দুমাত্র রেয়াত করা হবে না। নতুন এই আইন অনুযায়ী, অপরাধ প্রমাণ হলে শুধু জরিমানা নয়, বরং তার তিন গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। পাশাপাশি, পুলিশের ওপর হামলা চালালেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৯ জুন বিধানসভায় পাস হওয়া গুন্ডা দমন সংক্রান্ত জোড়া বিলে একাধিক কড়া বিধান রাখা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেবল অপরাধ ঘটার পরেই নয়, বরং ঘটনার আগেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ। এছাড়াও যে কোনো সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকবে সরকারের হাতে। এই আইনের আওতায় রাজ্য সরকার পুলিশ সুপারের নিচে নয় এমন পদমর্যাদার অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতে সমাজবিরোধীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটক রাখতে পারবে।
আইনের যথাযথ রূপায়ণের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক বা একাধিক উপদেষ্টা বোর্ড গঠনের সংস্থান রাখা হয়েছে। এই বোর্ডের কাজ হবে আটকের বিষয়টি পর্যালোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট পেশ করা। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে ন্যায়বিচার পান, তার জন্য ‘ক্লেমস কমিশন’ গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এই কমিশন দেওয়ানি আদালত হিসেবে গণ্য হবে এবং তাদের রায়ই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। শুধু মূল অপরাধীই নয়, বরং অপরাধে উস্কানিদাতা, অর্থের জোগানদাতা এবং অভিযুক্তের আশ্রয়দাতাকেও সমান অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।