ভোজনরসিক বাঙালির সবথেকে প্রিয় খাবার বিরিয়ানি কি এবার আরও দামি হতে চলেছে? শহর ও শহরতলির নামী বিরিয়ানি সংস্থাগুলির অন্দরমহল থেকে কিন্তু তেমনই আশঙ্কার ইঙ্গিত মিলছে। বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের (Commercial LPG) দাম একধাক্কায় ৯৯৪ টাকা বেড়ে যাওয়ায় রীতিমতো দিশেহারা হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা। বারাকপুরের বিখ্যাত ‘দাদা বৌদি’ থেকে পার্কসার্কাসের ‘আর্সালান’— সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রে আকাশছোঁয়া রান্নার গ্যাসের দাম।
দাদা-বৌদি বিরিয়ানির ভবিষ্যৎ কী?
বাণিজ্যিক গ্যাসের বর্তমান আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বারাকপুরের আইকনিক ‘দাদা বৌদি বিরিয়ানি’-র অন্যতম কর্ণধার রাজীব সাহা। তিনি জানান, বর্তমানে কলকাতায় বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২০২ টাকা, যা মাত্র কয়েক মাস আগেও ছিল ২০০০ টাকার নিচে।
রাজীব বাবুর কথায়, “একবারে প্রায় হাজার টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে, যা অভাবনীয়! কর্মচারীদের বেতন থেকে শুরু করে অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ সামলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” বিরিয়ানির দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের কাছে টাকা ছাপানোর মেশিন নেই। দাম তো বাড়াতেই হবে, কিন্তু হঠাৎ করে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বোঝা চাপানোও যায় না। কী করা যায়, তা নিয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছি।”
আর্সালান ও উজ্জ্বল দা-র কী মত?
কলকাতার বিরিয়ানি জগতের অন্যতম নাম আর্সালান। পার্কসার্কাস মেইন ব্রাঞ্চের ম্যানেজার মোজাম্বিল হক জানিয়েছেন, গ্যাসের পাশাপাশি মশলার দামও উর্ধ্বমুখী। মালিকপক্ষের তরফে এখনও দাম বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম না বাড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলেই তাঁর অভিমত।
অন্যদিকে, শহরতলির ভাইরাল বিরিয়ানি ডেস্টিনেশন ‘উজ্জ্বল দা-র বিরিয়ানি’-র মালিক উজ্জ্বল সাহা কিছুটা ভিন্ন সুর ধরলেন। তিনি জানান, এখনই সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের কথা ভেবে তাঁরা দাম বাড়াতে চান না। তবে খরচ সামলাতে সম্ভবত আগামী পুজোর মরসুম থেকে বিরিয়ানির দাম সংশোধনের পথে হাঁটতে পারেন তাঁরা।
কেন এই মাথায় হাত?
ব্যবসায়ীদের মতে, বিরিয়ানি রান্নার জন্য প্রচুর পরিমাণে বাণিজ্যিক গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কয়েক মাসের ব্যবধানে সিলিন্ডার পিছু ১২০০ টাকার বেশি খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, বাঙালির প্রিয় বিরিয়ানির স্বাদ বজায় রাখতে রেস্তোরাঁ মালিকরা লাভের অংক কাটছাঁট করেন নাকি প্রিয় প্লেটের দাম বাড়ানোই শেষ রাস্তা হয়ে দাঁড়ায়।





