মহারাষ্ট্রের নাসিকে একটি বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি (IT) সংস্থায় মহিলাদের ওপর যৌন নিগ্রহ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার নাসিকের দায়রা আদালত এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তথা কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মী অশ্বিনী চেইনানিকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নাসিকের পুলিশ কমিশনার সন্দীপ কার্নিক একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছেন।
ভয়াবহ অভিযোগ ও মোডাস অপারেন্ডি:
অভিযোগ উঠেছে, ওই সংস্থার কিছু আধিকারিক সুপরিকল্পিতভাবে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের তরুণীদের লক্ষ্যবস্তু করত। তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখত। সেখানে ‘টার্গেট’ কর্মীদের ধর্ম, জীবনধারা ও পোশাক পরিবর্তনের জন্য মানসিক চাপ দেওয়া হতো। এমনকি তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে যৌন হেনস্থা ও ধর্মান্তরের জন্য বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযুক্ত এইচআর অশ্বিনী চেইনানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ভুক্তভোগীদের সাহায্য করার বদলে অপরাধীদের আড়াল করতেন।
তদন্তের অভিমুখ ও আন্তর্জাতিক যোগ:
নাসিক পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, এই চক্রে মোট ৯ জন জড়িত (২ জন মহিলা ও ৭ জন পুরুষ)। ইতিমধ্যে আসিফ আনসারি, শফি শেখ-সহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে অন্যতম মূল অভিযুক্ত নিদা খান এখনও পলাতক। পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে, এই সুসংহত অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন বা বিদেশি তহবিলের যোগসূত্র রয়েছে কি না।
জাতীয় মহিলা কমিশনের পদক্ষেপ:
গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর বিপিও ইউনিটে এই ধরণের অমানবিক ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য রাজনীতিতেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ৯টি আলাদা মামলা দায়ের করে পুলিশ এখন এই গভীর ষড়যন্ত্রের শিকড়ে পৌঁছাতে মরিয়া।





