হোয়াটসঅ্যাপে ফাঁদ পাতার দিন শেষ! আসছে দুর্দান্ত এআই ফিচার, স্ক্যামে পড়ার আগেই জানাবে অ্যালার্ট

বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধ এবং অনলাইন প্রতারণার জাল যেভাবে বিস্তার লাভ করছে, তাতে সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার মোকাবিলায় এবার মেটার জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নিয়ে আসছে এক অত্যাধুনিক ফিচার। সাইবার স্ক্যাম বা প্রতারণার হাত থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষিত রাখতে খুব শীঘ্রই যুক্ত হতে চলেছে নতুন ‘এআই স্ক্যাম অ্যালার্ট’ (AI Scam Alert) ফিচার।

কীভাবে কাজ করবে এই নতুন ফিচার?

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন এআই-ভিত্তিক ফিচারটি ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের ডিভাইসেই মেসেজগুলো মূল্যায়ন করতে মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। কোনো কথোপকথনে যদি প্রতারণা বা স্ক্যামের সামান্যতম ইঙ্গিতও পাওয়া যায়, তবে তা তৎক্ষণাৎ শনাক্ত করে চ্যাটের মধ্যেই ব্যবহারকারীকে একটি সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সবচেয়ে বড় কথা, এই সতর্কতা কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীই দেখতে পাবেন, যার সঙ্গে চ্যাট করা হচ্ছে তিনি এবিষয়ে বিন্দুমাত্র টের পাবেন না।

সতর্কবার্তা পাওয়ার পর ব্যবহারকারীর হাতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তিনি চাইলে সঙ্গে সঙ্গে ওই কন্ট্যাক্টটিকে ব্লক করতে পারবেন, হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে পারবেন অথবা ঝুঁকি জেনেও চাইলে চ্যাট চালিয়ে যেতে পারবেন।

ভুল সতর্কতা এড়ানোর সুযোগ এবং গোপনীয়তা

অনেক সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাধারণ কোনো কথোপকথনকেও ভুলবশত সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। এই সমস্যার সমাধানেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি সিস্টেম কোনো সাধারণ চ্যাটকে ভুলবশত স্ক্যাম হিসেবে চিহ্নিত করে, তবে ব্যবহারকারী সেটিকে ‘বিশ্বস্ত’ (Trusted) বা নিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবেন। এর ফলে ওই নির্দিষ্ট কথোপকথনের জন্য সতর্কতাটি সরিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া, স্ক্যাম শনাক্তকরণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা উন্নত করতে ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের শেষ পাঁচটি মেসেজ ঐচ্ছিক ভিত্তিতে শেয়ার করতে পারেন।

ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার বিষয়টিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই স্ক্যাম ডিটেকশন সিস্টেমটি চালু থাকলেও মেসেজের মূল বিষয়বস্তু বা কনটেন্ট ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইস ছেড়ে বাইরে কোথাও যাবে না। অর্থাৎ, কোনো চ্যাট সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হোয়াটসঅ্যাপ, মেটা বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে ফাঁস হয়ে যাবে না। এমনকি ব্যবহারকারী যখন খুশি এই স্ক্যাম অ্যালার্ট ফিচারটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা বন্ধও করে রাখতে পারবেন। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক বেটা (Beta) ব্যবহারকারীর ডিভাইসে এই ফিচারের পরীক্ষা চলছে এবং খুব শীঘ্রই এটি বিশ্বজুড়ে সমস্ত ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha